প্রচ্ছদ মনীষী জীবন

হযরত শাহ্ সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ.

পীরজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ আহছান | বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1427 বার

হযরত শাহ্ সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ.

মাছিহাতা দরবার শরীফের ঐতিহাসিক বাংলো

সিলেট বিজয়ী আওলাদে রাসূল হযরত শাহ সৈয়দ নাসিরউদ্দিন সিপাহসালার রহ.এর আওলাদগণের মধ্যে হযরত শাহ সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ. ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের মহাসম্রাট ও সাধক পুরুষ। তিনি ছিলেন ‘সাইয়েদুল আউলিয়া’। তিনি যদি কারো দিকে তাওয়াজ্জুর দৃষ্টিতে তাকাতেন তার সমস্ত লোম কোপের গোড়া হতে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ শব্দ বের হত। তিনি ১২৭৯ বাংলা সনে ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলার মাছিহাতার ঐতিহ্যবাহী পীর পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। সাইয়েদুল আউলিয়া শাহ সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ. এর বহু কাশফ ও কারামতের কথা এখনো লোকমুখে শোনা যায়। তিনি তাঁর মুরিদগণকে নকশেবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া তরীকায় তা’লীম দিতেন। তাঁর তা’লীম ও তাওয়াজ্জুর বদৌলতে বহু মুরিদ  মারেফাতের উচ্চ শিখরে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ. ছোট বেলা হতেই আল্লাহ পাকের প্রেম পিয়াসী ছিলেন। দুনিয়াদারীর ঝামেলা হতে নিজেকে মুক্ত রেখে সর্বদা আল্লাহর ধ্যানে ও খেয়ালে থাকাকেই অগ্রগণ্য কাজ বলে মনে করতেন। তিনি যখন ছোট বেলায় পূণ্যময়ী মাতার তত্ত্বাবধানে থেকে মাছিহাতার সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সাহেবের নিকট গুলিস্তা, বোস্তা কিতাব পড়ছিলেন তখনই পীর মুর্শিদ গ্রহণের জন্য তাঁর মন ব্যাকুল হয়ে পড়ে। ঠিক এমন সময় তাঁর সুযোগ্য পিতা হযরত শাহ সৈয়দ শাহ্ মীর রহ. এর বিশিষ্ট খলিফা বিক্রমপুর নিবাসী মৌলানা গোলাম মওলা খাঁ রহ. মাছিহাতা তাশরিফ আনলে সৈয়দ  ইয়াকুব আলী রহ. এর মাতা সৈয়দা ফয়জুন্নেছা খাতুন তার পুত্রকে মুরিদ করার কথা বললে মাওলানা গোলাম মওলা খাঁ রহ. পীর পুত্র কে মুরিদ করা আদবের খেলাফ হতে পারে বলে মনে করে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। মাওলানা গোলাম মওলা খাঁ রহ. যুগশ্রেষ্ঠ কামেল ওলিউল্লাহ ছিলেন। হযরত শাহ সৈয়দ আহম্মদ বেরলবী রহ. এর মোজাহিদ বাহিনীতে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন পবিত্র জিহাদী কাজে নিয়োজিত থাকেন। বৃহত্তর ঢাকা জেলা, ত্রিপুরা ও আগরতলায় তার বহু ভক্ত মুরিদ ছিল। তত্ত্বজ্ঞানী মাওলানা গোলাম মওলা খাঁ রহ. একদিন মাছিহাতায় তাঁর মুর্শিদ তনয়কে সঙ্গ ধরিয়ে দেয়ার জন্য আরেফে মোকাম্মেল হযরত শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিস মহনতনীকে রহ. নিয়ে আসেন। তিনি তরিকত ও তাসাউফের পরিপূর্ণ জ্ঞানী ও মারেফাতের উচ্চ শিখরে পৌছেছিলেন। অবশেষে তাঁর মাতা হযরত সৈয়দা ফয়জুন্নেছা খাতুনের আদেশ ও অনুমতিতে তিনি মাওলানা শাহ আবদুল আজিজ রহ. এর নিকট বায়আত হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে এ সংসার মায়া ত্যাগ করে নীরবে কোথাও গিয়ে আল্লাহর ধ্যান ও সাধনায় লিপ্ত হওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁর মাতা কিছুতেই যেতে দেবেন না। লেখাপড়াও শেষ হয় নাই, সবে মাত্র গুলিস্তা-বুস্তা কিতাব পড়েছেন। তিনি তার পীর মুর্শিদকে ধরে মায়ের কাছে সুপারিশ করলেন। তার পীর মুর্শিদের সাথে মায়ের অনেক কথোপোকথন হল। যা এভাবে তাঁর কাব্য গ্রন্থে লিখা রয়েছে (কাব্যে- ছাইয়েদুল আউলিয়া পৃষ্ঠা-৯১,কবি আলফাজ উদ্দীন পন্ডিত)।

তাঁর পীর মুর্শিদ যখন তাঁর( সয়ৈদ ইয়াকুব আলী) মাতাকে লোকালয় হতে দেশত্যাগ করে বনে জঙ্গলে গিয়ে সাধনা মুজাহাদা করার কথা বললেন তাঁর মাতা বলেন-

“ সেত লভেনি বিদ্যা জ্ঞান সাধারণ,

তাহাতে রক্ষিবে কিসে ইসলামের মান ।

আগেতে বিদ্যার স্বাদ লভ যথারীতি,

যথাকালে প্রেমানন্দে লভ আল্লা প্রীতি।

পীর বলে যা বলিলে নারী চূড়ামনি,

সকলি যথার্থ বটে, কিন্তু মমবাণী।

আল্লাহর রাসূল কোথা করে অধ্যয়ন,

কোন বিদ্যালয়ে পড়ে সাহিত্য দর্শন।

কে শিখাইল তাঁকে কোরআনের বাণী।

কেবা শিখাইল নীতি যুদ্ধ বিষয়িণী।

দুর্ধর্ষ আরব জাতি তাদের সর্দারী

কি গুনে কিনিয়া ছিল রাসূল কান্ডারী।”

অতঃপর তিনি কঠোর রিয়াজত মুজাহাদার জন্য সংসারের মায়া ত্যাগ করে বাড়ি হতে বের হয়ে যান। দীর্ঘকাল আল্লাহ প্রাপ্তির জন্যে কঠোর সাধনা-শ্রম রিয়াজত-মুজাহাদা করে আল্লাহ প্রেমে অমীয় সুধা পান করতে সক্ষম হন।

শাহ সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ.’র কাশফ ও কারামত ছিল সর্বজন বিদিত। তার ইলহামী শক্তি ছিল অফুরন্ত।

একদিন তাঁর স্ত্রী মুহতারীমা সৈয়দা আফিফা খাতুন রাহী.তাকে বললেন, ’আপনি শরীয়ত ও তরীকতের দিক দিয়ে একজন কামেল ওলি আল্লাহ, কিন্তু আপনাকে কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করতে দেখা যায় না কেন?’ তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, ’আমি ছাত্রাবস্থায় লেখাপড়া বন্ধ করে আল্লাহ পাকের প্রেমে বনে জঙ্গলে চলে গিয়েছিলাম। কোরআন শরীফ অর্থ সহ বুঝতে পারি না। আল্লাহ যেদিন অর্থসহ কোরআন শরীফ বুঝে পড়া আমাকে দান করবেন আমি সেদিনই কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করব।’ কিছু দিন পর দেখা গেল তিনি অনর্গলভাবে কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করছেন এবং কোরআন শরীফের বহু দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য তফসীর সংগ্রহ করে পাঠ করতেন, যা আজো মাছিহাতা দরবার শরীফে সংরক্ষিত রয়েছে।

তাঁর বড় সাহেবজাদা মাওলানা শাহ সৈয়দ কুতুবুর রহমান রহ. বলেন, ’পনের বছর বয়সে আমি একদিন আমাদের পুকুর পাড়ে (দরগা পুকুর) দাঁড়িয়ে ছিলাম। এক ব্যক্তি মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. কে মন্দ বলছিল। আমার আব্বাজান কিবলা একথা শুনে খুবই বিরক্ত হলেন এবং ধমক দিয়ে বল্লেন, “কমবখত এ মুহুর্তেই তুমি তওবা কর যিনি অচিরেই এই জামানার মুজাদ্দিদ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবেন তার সমন্ধে এতবড় বেয়াদবি পূর্ণ কথা!’ একথা বলে তিনি তাকে শাসন করলেন। পরবর্তী কালে দেখা গেল ভারতবর্ষের প্রখ্যাত আলেম আশরাফ আলী থানভী রহ. মুজাদ্দিদ হিসাবে প্রকাশ হওয়ার বহু পূর্বেই হযরত সাইয়েদুল আউলিয়া কিভাবে বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, তিনি এমন এক পর্যায়ে উপনীত হবেন, দীনের প্রতিটি শাখায় তিনি অবিষ্মরণীয় অবদান রাখবেন? এ সমস্ত ঘটনাবলীর দ্বারা সাইয়েদুল আউলিয়ার বাতেনী ইলহামী শক্তির প্রখরতার কথা স্পষ্ট বুঝা যায়।

তিনি মুসলিম জাতীয়তাবাদের পূর্ণ সমর্থক ও ইংরেজ খেদাও আন্দোলন এবং রাজনীতি সচেতন কামেল পীর মুর্শিদ ছিলেন। এদেশ থেকে ইংরেজদেরকে বিতারিত করার জন্য যে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল এর প্রতি সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ.’র পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল। তিনি নিজে দেশীয় খদ্দর পরিধান করতেন এবং শাগরিদ-মুরিদ ও আত্মীয়-স্বজনকে দেশীয় বস্ত্র পরিধান করার জন্য উৎসাহ দিতেন। চরকা দ্বারা সূতা কাটতে ও কাপড় তৈরী করতে তিনি দেশবাসীকে বিশেষভাবে প্রেরণা দিতেন। সকলকে উৎসাহিত করার জন্য তিনি দরবার শরীফে অনেক তুলা গাছ রোপন করেন এবং তাঁতকল বসিয়ে দেশীয় শিল্প বিকাশের পথ প্রশস্ত করেন। জীবনের অন্তীম মূহুর্তে তিনি ওয়াসিয়ত করে যান যে, তাঁর ইন্তেকালের পর যেন তাঁকে খদ্দর দিয়ে কাফন দেয়া হয়। তাঁর অন্তীম ইচ্ছা অনুযায়ী খদ্দরের কাপড় দিয়েই তাকে কাফন দেয়া হয়েছিল। তার উপদেশ অনুযায়ী খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন করতে গিয়ে তাঁর মুরিদান ও নিজ সন্তান কারাবরণ ও ইংরেজদের বেত্রাঘাতে জর্জরিত হয়েছিল। তার সময় ব্রাক্ষণবাড়ীয়ায় কাদিয়ানীদের তৎপরতা দেখা দিলে তিনি জায়গায় জায়গায় সভা সমিতি করে কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং এদেরকে কোণঠাসা করে ফেলেন। হযরত শাহ সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ. মানুষকে শুধু আত্মশুদ্ধির তালীমই দিয়ে যাননি, তিনি ইসলামের প্রতিটি আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

তিনি একদিন একজন লোককে জিজ্ঞাসা করলেন,’আমাদের নবীজির জন্ম তারিখ কবে? লোকটি উত্তর দিতে পারল না। এভাবে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলে কেউই সঠিক উত্তর দিতে না পারায় তিনি খুবই ব্যথিত হলেন। এদের সবাইকে জিজ্ঞাসা করলেন ভাদুঘরের মেলার তারিখ কবে? সবাই সঠিক তারিখটি বলে দিল। তখন তিনি খুবই দুঃখিত হলেন। পরের বছরই ১২ই রবিউল আওয়াল তারিখে তাঁর বাড়িতে একটি মাহফিলের আয়োজন করেন। দুইটি ভেড়া জবাই করে মাহফিলের লোকজনদের আপ্যায়িত করেন। নবী জীবনের বাস্তব আদর্শ ও উদ্দেশ্যসমূহ মানুষের সামনে পেশ করার জন্য ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ্ই মিলাদুন্নবী সা. মাহফিলটি সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে শতাব্দীকাল যাবৎ শরিয়তের পরিপূর্ণ তালীম তরবিয়ত বজায় রেখে পরিচালিত হয়ে আসছে। হাজারো হাজারো আশেক রাসূল প্রতি বছর বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় এতে শরীক হয়ে নবী জীবনের বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে ওলামায়ে কেরামের ওয়াজ নসীহত শ্রবণ ও যিকির ফিকিরের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করে চলেছেন। এ দরবারের প্রতিটি ভক্ত মুরিদের উপর আদেশ থাকে যে তারা যেন রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর ছোয়াব রেছানির নিয়তে যথেষ্ঠ পরিমাণ কোরআন শরীফ, নফল নামায ও রোযা এবং কালিমা ও দরূদ শরীফের সোয়া লাখ খতম আদায় করে মাহফিলে হাজির হয়।  মাহফিলে হিসাব করে দেখা যায় যে প্রতি বছর প্রায় লক্ষাধিক কুরআন শরীফের খতম লক্ষাধিক রাকায়াত নফল নামায, লক্ষাধিক রোযা, কালিমা ও দরূদ শরীফের খতম একত্রিত হয়ে আখেরী মুনাজাতের সময় রাসূলেপাক সা.’র শানে আল্লাহপাকের দরবারে পেশ করা হয়। যা শত বছর যাবৎ যথাযথভাবে পালিত হয়ে আসছে । মহরম মাস আগমনের সাথে সাথেই মাছিহাতার ভক্ত মুরিদগণ এলাকার মুরুব্বীগণদের নির্দেশে যথাযথ তদারকির মাধ্যমে সওয়াব রেসানির নিয়তে এই কাজ আন্জাম দিয়ে আসছেন।

তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চলাফেরা, কথাবার্তা, পোশাক-পরিচ্ছেদ, পাগড়ী, টুপি, ঢিলা-কুলুখ, ওযু, তাহারত সর্বাবস্থায় কোথাও কোন দিন নবীজীর সুন্নাতকে ছেড়ে দিতে দেখা যায়নি। তিনি প্রায়ই বলতেন, ’ইলমে শরীয়ত ও ইলমে মারেফাত উভয় প্রকারের বিদ্যাই আসল। একটি ব্যাতিত অপরটি অসম্পূর্ণ, যেমন ইসলাম ও ঈমান যা আখেরাতের সাথে সম্পৃক্ত, এ দুইটির মধ্যে একটি দেহ ও অপরটি প্রাণ স্বরূপ। ইহার একটির অভাবে যেরূপ মানুষ বাঁচতে পারে না সেরূপ শরীয়ত ব্যতিত মারেফাতের অস্তিত্য কল্পনা করা যায় না।’

মাছিহাতার এ দরবার সাড়ে তিন শত বছর যাবৎ তাদের পূর্ব পুরুষ ও অলিগণের খান্দানী ধারাবাহিকতায় শরীয়ত ও তরীকতের সঠিক তা’লীম দিয়ে আসছে।  সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ.’র আউলাদগণের মধ্যে যুগ শ্রেষ্ঠ ওলামা ও আউলিয়া জন্মগ্রহণ করেন যারা এদেশে নিরলসভাবে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার, সমাজ সংস্কার, রাজনীতি ও ইসলামের প্রচার প্রসার ও আধ্যাত্মিকতায় বিরাট অবদান রেখে গেছেন। আল্লাহ প্রেমে উন্মত্ত প্রায়, তাসাউফের পূর্ণ জ্ঞানী মহা সাধক সাইয়েদুল আউলিয়া শাহ সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ. ১৩৩০ বাংলা ১৮ই জৈষ্ঠ্য তারিখে নিজ বাড়ী মাছিহাতায় ইন্তেকাল করেন। আটলা পারিবারিক কবরস্তানে তাকে চির নিদ্রায় সমাহিত করা হয়। প্রতি বছর ৮ই জৈষ্ঠ্য তাঁর বাৎসরিক ইছালে ছওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

নছব নামা:

হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সা.  হযরত সৈয়দা ফাতেমা রা. হযরত ইমাম হুসাইন রা. হযরত ইমাম জয়নাল আবেদীন, ইমাম মোহাম্মদ বাকের, ইমাম জাফর সাদেক, ইমাম মূসা কাজেম, ইমাম আলী রেজা, ইমাম মোহাম্মদ তক্বী, ইমাম আলী হাদী, ইমাম হাসান আসকারী, খাজা সৈয়দ আবুল ফারাহ, খাজা সৈয়দ আবুল ফাত্তাহ, খাজা সৈয়দ দাউদ, খাজা সৈয়দ হাসান আরাবী, সৈয়দ নাসিরউদ্দিন সিপাহসালার রহ. (সিলেট বিজয়ী), সৈয়দ সিরাজ উদ্দিন, সৈয়দ মুছাফির, সৈয়দ খোদাবন্দ, সৈয়দ সাইফ  সৈয়দ আব্দুল করিম, সৈয়দ নুরূল ইসলাম বন্দেগী (মাছিহাতায় প্রথম আগমনকারী), সৈয়দ ইসমাইল, সৈয়দ হাছান, সৈয়দ জালাল উদ্দিন, সৈয়দ মোহাম্মদ তক্বী, সৈয়দ গোরবত আলী, সৈয়দ শাহ মীর, সৈয়দ ইয়াকুব আলী (সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ.ও সৈয়দ ইদ্রীস রহ. দুই ভাই)।

সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ.’র সন্তানগণ সৈয়দ কুতুবুর রহমান, সৈয়দ আবু আবদুল্লাহ আহমদ, সৈয়দ মাওলানা মুছলেহ উদ্দীন, সৈয়দ আবুল ফারাহ ফরিদ উদ্দীন, সৈয়দ আবু নাসের ওয়াহিদ উদ্দীন, সৈয়দ আবুল কাসেম মুহিউদ্দীন, সৈয়দা সিদ্দীকা খাতুন, সৈয়দা আতিকা খাতুন, সৈয়দা ফরখুন্দা খাতুন, সৈয়দা ছায়িদা খাতুন, সৈয়দা ছিফওয়াতুন্নিছা, সৈয়দা জহুরা খাতুন।

সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ. কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার দিলালপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে জনাব সৈয়দ আবদুর রউফ রহ. প্রথমা কন্যা সৈয়দা আফিফা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাঁর শ্বশুর সাহেব ছিলেন একজন কামেল ওলি।

হযরত ছাইয়েদুল আউলিয়া পরবর্তীতে হযরত শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিছ মহনতনীর কন্যা মুহতারীমা শাহেরা খাতুনের সাথে ২য় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

হযরত শাহ সৈয়দ ইয়াকুব আলী রহ. ছিলেন সুফি সাধক খোদাপ্রেমিক হাক্কানী ওলি। তাসাউফ ও আধ্যাত্মিক ও রূহানিয়্যাতের প্রতিটি সূক্ষ্ তত্ত্ব রহস্যে তাঁর অপরিসীম জ্ঞান ছিল। আল্লাহপাক তাঁকে তরীকতের তত্ত্বজ্ঞানে ও বাতেনী আহওয়ালগুলির উচুস্থরে পৌঁছিয়ে ছিলেন। (চলবে)

qaominews.com/কওমীনিউজ/এএন

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ