• রবিবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    সীমানা পেরিয়ে ভারতের ভেতরে চীনা সৈন্যরা, ভারতের অস্বীকার

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৪ জুন ২০২০ | ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

    সীমানা পেরিয়ে ভারতের ভেতরে চীনা সৈন্যরা, ভারতের অস্বীকার

    করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই ভারতের উত্তর সীমান্তে লাদাখে চীনের অগ্রযাত্রা ও বাড়তি সেনা মোতায়েনকে কেন্দ্র করে দুদেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
    দুদেশের মাঝে যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি রয়েছে, গত কয়েকদিনে সেই এলএসি বরাবর বিভিন্ন স্থানে দুদেশের সেনারা সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। খবর বিবিসির।

    চীনা সৈন্যরা এবার ঘাঁটি তৈরি করেছে লাদাখের গালওয়ান ভ্যালির মতো সম্পূর্ণ নতুন জায়গাতেও, যেখানে আগে কোনও বিরোধের ইতিহাস ছিল না।


    কেন আচমকা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হল, তা পর্যবেক্ষকদেরও বেশ ধন্দে ফেলেছে।

    ভারত ও চীনের মধ্যে কোনও সুনির্দিষ্ট ও সুচিহ্নিত আন্তর্জাতিক সীমানা নেই, তার বদলে আছে কয়েক হাজার কিলোমিটার লম্বা একটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল, যা লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।


    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন রিপোর্ট অনুসারে, গত দু-তিনসপ্তাহের ভেতর চীনা সেনাবাহিনী এই ‘এলএসি’ অন্তত চার জায়গায় অতিক্রম করে অবস্থান নিয়েছে।

    সেই জায়গাগুলো হল লাদাখের প্যাংগং সো বা প্যাংগং লেক, গালওয়ান নালা ও ডেমচক। আর সিকিমের নাকু লা।


    ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুক্লা তার ব্লগে লিখেছেন, এই প্রথম সমগ্র গালওয়ান ভ্যালিকেই চীন নিজেদের বলে দাবি করছে।

    শুক্লার কথায়, “এই ইনট্রুশন-গুলো কিন্তু হয়েছে বিরাট একটা জায়গা জুড়ে। উত্তর লাদাখের গালওয়ান ভ্যালি থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ লাদাখের ডেমচক, আর সেখান থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে সিকিমের নাকু লা পাস পর্যন্ত।” যা থেকে বোঝা যায় এই গোটা অভিযানটার পরিকল্পনা হয়েছে রাজনৈতিকভাবে খুবই উঁচু মহলে, এমন নয় যে স্থানীয় কমান্ডাররা তাদের ইচ্ছেমতো এগুলো করছেন।

    শুধু অবস্থান নেওয়াই নয়, গত কয়েকদিনের মধ্যে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর বেশ কয়েক দফা মুখোমুখি সংঘর্ষও হয়েছে। দুপক্ষেই বেশ কয়েক ডজন সৈন্য আহত হয়েছেন, এমন কী কয়েকজন ভারতীয় সেনাকে চীন বেশ কিছুক্ষণ আটকে রেখেছিল বলেও রিপোর্ট হয়েছে। যদিও ভারত পরে তা অস্বীকার করেছে।

    বিরাট সংখ্যক চীনা সৈন্য সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়েছে, দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে একটি জাতীয় টিভি চ্যানেল এই তথ্য জানানোর পর ভারত সরকার সেটিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে দাবি করেছে।
    যদিও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ওই সাক্ষাৎকারে পরিষ্কার বলতে শোনা গেছে “বেশ বড় সংখ্যায় চীনের সৈন্যরা কিন্তু এসে গেছে”, তার পরও সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেল তাদের খবরটি আজ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

    এদিকে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত অচলাবস্থা নিয়ে শনিবার ৬ জুন সামরিক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি চীন সীমান্তবর্তী লাদাখের বাসিন্দারা চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করছেন।

    বস্তুত গত প্রায় মাসখানেক ধরেই ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম রিপোর্ট করছে, ভারত ও চীনের মধ্যে যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি রয়েছে সেটা পেরিয়ে এসে লাদাখের অন্তত তিনটি জায়গায় চীনা সৈন্যরা অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু এখবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বা অস্বীকার করে দিল্লিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে এতদিন প্রকাশ্যে একটিও শব্দ বলা হয়নি। সেই নীরবতা ভেঙে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত রাতে ভারতের নিউজ-১৮ চ্যানেলকে একটি সাক্ষাৎকার দেন।

    এদিন সকালে ওই চ্যানেলটিও ভুল স্বীকার করে তাদের খবর প্রত্যাহার করে নেয়, তারা জানায় যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পূর্ব লাদাখের কথা কখনও উল্লেখই করেননি। সরকারের তরফ থেকে এভাবে তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামা হলেও লাদাখে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কিন্তু চাপা দেওয়া যাচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি

    কওমীনিউজ/এইচ

     

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2020 qaominews.com all rights reserved