• রবিবার ২৪শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    ‘রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান চায় ভারত’

    অনলাইন ডেস্ক | ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ | ৮:৩২ অপরাহ্ণ

    ‘রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান চায় ভারত’

    ছবি: সংগৃহীত

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ, কিন্তু সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের মতো নেতিবাচক কিছু উপাদানের জন্য এটি কলঙ্কিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাঝে ভার্চুয়াল আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


    সীমান্ত হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান না হওয়া প্রসঙ্গে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘‘আমরা বাংলাদেশি লোক, আমাদেরও হতাশ করে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে এটির সমাধান করা সম্ভব। আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি। আজকেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছেন—‘কোনও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না।’ আমরা তাদের বিশ্বাস করতে চাই। আমরা চাই না একজন লোকও সীমান্তে মারা যাক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের ঘটনা সময়ে সময়ে হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে এত সুন্দর সম্পর্ক। কিন্তু এগুলো সম্পর্কে কলঙ্ক তৈরি করে।’’

    মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন—প্রাণঘাতী নয় (নন-লিথেল) এমন অস্ত্র ব্যবহার হবে।’


    বিএসএফ ঘুষ খায় এ সম্পর্কিত অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি সাংবাদিকদের ইস্যু। আমরা শুনেছি পত্রপত্রিকার মাধ্যমে বিএসএফ ঘুষ খায় এবং এই ব্যবসায় প্ররোচিত করে। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের আরও লেখা উচিত।’

    তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তুলেছি।’


    তিনি বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে আগেই ভারতের সরকার রাজি হয়ে আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা বলেছি, তিস্তা ইস্যু তুলে আপনাদের লজ্জিত করতে চাই না। তবে এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে আমরা বাকি ছয়টি নদীর কথা জিজ্ঞাসা করেছি। তারা একলাইনে উত্তর দিয়েছেন।’

    কী বলেছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে তারা বলেছেন, তারা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আলোচনা করছেন।’

    রোহিঙ্গা নিয়ে ভারতের চিন্তা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা বলেছেন, এর দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার। কারণ, না হলে এই এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখা দিতে পারে। সেজন্য এ বিষয়ে যা যা করা দরকার, তারা আমাদের সঙ্গে মিলে করবে। এটাও বলেছে যে একমাত্র সমাধান হচ্ছে তাদের ফেরত যাওয়া।’

    ট্রানজিট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নেপাল ও ভুটান পর্যন্ত কানেক্টিভিটি চাই এবং আজকে এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতীয়রা আজকে বলেছেন, তারা বাড়তি ফ্লাইট দেবে। কিন্তু আমরা বলেছি, আমাদের লোক যায় সড়ক এবং রেল দিয়ে। এগুলো আগে চলাচল শুরু করেন। তারা বলেছেন, কোভিডের জন্য এটি আটকে রেখেছি।’

    ভারত কী চেয়েছে জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ভালো সম্পর্ক বলে তারাও অনেক কিছু পেয়েছে। তাদের পূর্ব সীমান্তে কোনও ঝামেলা নেই এবং এর থেকে বড় কিছু পাওয়ার আছে? কানেক্টিভিটির কারণে তাদের ও আমাদের জিনিস বিক্রি হয় এবং এটি খুব ভালো। কানাডা ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক ভালো হওয়ার কারণে ব্যবসা তুঙ্গে এবং আমরাও চেষ্টা করছি। আমাদের লোকজন সেখানে (ভারতে) স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার জন্য যায়। আবার তাদের অনেক লোক এখানে চাকরির জন্য আসে। এটি আমরা বলেছি।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন চাই। স্থিতিশীলতা না থাকলে সেটি অর্জন করা যাবে না। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ায় এই স্থিতিশীলতা আছে। এর ফলে আমাদের লক্ষ্যগুলো আমরা সহজে অর্জন করতে পারি। বিদেশিরা তখনই বিনিয়োগ করবে, যখন তারা দেখবেন এখানে স্থিতিশীলতা আছে।’

    মন্ত্রী জানান, আজকের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড রোড নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কারণ, এই রোড নেটওয়ার্কটি কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে ভারতের পক্ষে ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) নতুন যে ব্যাংকটি করেছে, সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে।

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৮:৩২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2021 qaominews.com all rights reserved