• শুক্রবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    যে সমাজ অন্যকে অগ্রাধিকার দিতে শেখায়

    অনলাইন ডেস্ক | ২৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৯:১৩ অপরাহ্ণ

    যে সমাজ অন্যকে অগ্রাধিকার দিতে শেখায়

    মানুষ সাধারণত নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে। বেশির ভাগ মানুষই অন্যকে নিয়ে ভাবার সময় পায় না। কিছু মানুষ আবার অন্যকে নিয়ে ভাবলেও তারা তার অনিষ্ট কিভাবে করা যায় সেই চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। এটা হয় মনের কার্পণ্য থেকে। অথচ মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, সে তার মুমিন ভাইয়ের কল্যাণকামী হয়। তার মুমিন ভাইকে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, কিভাবে মুমিনের উপকার করা যায়, এ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এ ধরনের মুমিনদের প্রশংসা করেছেন। মদিনার আনসারি সাহাবিদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তারা (আনসারি সাহাবি) তাদের কাছে যারা হিজরত করে এসেছে তাদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে কোনো হিংসা অনুভব করে না, আর তারা (আনসারি সাহাবি) তাদের (মুহাজিরদের) নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। আসলে যাদের অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম।’ (সুরা হাশর, আয়াত : ০৯)

    এ আয়াতে মুহাজিরদের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় মহান আল্লাহ আনসার সাহাবিদের প্রশংসা করেছেন। কেননা সাধারণত মানুষ এহেন ভিটে-মাটিহীন দুর্গত মানুষকে স্থান দেওয়া পছন্দ করে না। সর্বত্রই দেশি ও ভিনদেশির প্রশ্ন উঠে। কিন্তু আনসাররা শুধু তাদের স্থানই দেননি; বরং নিজ নিজ গৃহে আবাদ করেছেন, নিজেদের ধন-সম্পদে অংশীদার করেছেন এবং অভাবনীয় সম্মান ও সম্ভ্রমের সঙ্গে তাদের স্বাগত জানিয়েছেন। একেকজন মুহাজিরকে জায়গা দেওয়ার জন্য কয়েকজন আনসারি আবেদন করেছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি করতে হয়েছে। (ইবনে কাসির, ফাতহুল কাদির ও বাগাভি)


    এ ঘটনা থেকে জানা যায়, ইসলামের আলোয় গড়ে ওঠা সমাজ অন্যকে নিঃস্বার্থে অগ্রাধিকার দিতে শেখায়।

    মনে কার্পণ্য থাকলে এত বড় কাজ করা কখনো সম্ভব নয়। মনের কৃপণতা একটি রোগ, এই রোগের চিকিৎসা পবিত্র কোরআনেই আছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যা ভালোবাসো তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো সওয়াব অর্জন করবে না। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবগত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৯২)


    মনে প্রশস্ততা থাকলে মানুষ নিজের অভাব থাকা সত্ত্বেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। এর বিনিময়ে তারা মানুষের কাছে কোনো প্রতিদানই আশা করে না। এর প্রতিদান জান্নাত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিদের খাদ্য দান করে। এবং বলে, শুধু আল্লাহর সস্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে আমরা তোমাদের খাবার দান করি, আমরা তোমাদের কাছ থেকে প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়। নিশ্চয়ই আমরা আশঙ্কা করি আমাদের রবের কাছ থেকে এক ভীতিকর ভয়ংকর দিনের। পরিণামে আল্লাহ তাদের রক্ষা করবেন সে দিনের অনিষ্ট থেকে এবং তাদের প্রদান করবেন হাস্যোজ্জ্বলতা ও উত্ফুল্লতা। আর তাদের ধৈর্যের পুরস্কারস্বরূপ তিনি তাদের প্রদান করবেন উদ্যান ও রেশমি বস্তু। সেখানে তারা হেলান দিয়ে আসীন থাকবে সুসজ্জিত আসনে, তারা সেখানে খুব গরম অথবা খুব শীত দেখবে না। আর তাদের ওপর সন্নিহিত থাকবে গাছের ছায়া এবং তার ফলমূলের থোকাসমূহ সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে। আর তাদের ওপর ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে রৌপ্যপাত্রে এবং স্ফটিক-স্বচ্ছ পানপাত্রে, রুপার স্ফটিক পাত্রে, তারা তা পরিমাণ করবে সম্পূর্ণ-পরিমিতভাবে।’ (সুরা দাহার, আয়াত : ৮-১৬)

    আমাদের উচিত, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মনকে কৃপণতামুক্ত করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া। অন্যের উপকার করার চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।


    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৯:১৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2021 qaominews.com all rights reserved