প্রচ্ছদ ধর্ম-দর্শন, স্লাইডার

মেয়েদের পর্দানশীল করার দশটি পদক্ষেপ

আব্দুল মতিন | শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1290 বার

মেয়েদের পর্দানশীল করার দশটি পদক্ষেপ

যারা আল্লাহ্কে ভালবাসেন, যাদের অন্তরে আল্লাহ্ তা‘আলার ভয় আছে, যারা নিজেদেরকে আল্লাহর রঙে রাঙাতে পেরেছেন, তাঁরা চান নিজের মেয়ে পর্দানশীল হোক। তাঁরা আপন মেয়েদের হিজাব পরিধানের প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তোলেন। কিন্তু কেউ কেউ আপন মেয়েদের হিজাবী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন। কেউ খুব কঠোর পথ অবলম্বন করেন। আবার কেউ কোমল আচরণ করে থাকেন। ফলে প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ও সফল হয় না। তাই দশটি পদক্ষেপ অবলম্বন করুন, আপনার পরিবার ও মেয়ে সহজেই হিজাব পরিধানে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। এরজন্য কোন কঠোরতার প্রয়োজন হবে না।

১. মেয়ে বড় হওয়ার পর তাকে পর্দার কথা বলবেন-এজন্য অপেক্ষা না করে বাল্যকাল থেকেই পর্দার কথা বলুন। তা না হলে বড় হওয়ার পর তার অভ্যাসকে পরিবর্তন করা কঠিন হবে।

২. মেয়ের সামনে পর্দায় বিস্ময় তুলে ধরুন। পর্দার উপকারিতার কথা বেশি বেশি করে বলুন। বলুন যে, পর্দার মাধ্যমে নিজের সম্মান বেড়ে যায়। পর্দার মাধ্যমে সৌন্দর্য বেড়ে যায়। পর্দা মেয়েদের মান-সম্মান বৃদ্ধি করে দেয়।

৩. মেয়েদের কাছে উল্লেখ করুন যে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্ তা‘আলার আদেশ হচ্ছে ‘পর্দা করা’। তাকে বলুন যে, শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পর্দা করতে হবে। তাকে বলুন, যে মেয়ে পর্দা করে আল্লাহ্ তার ওপর খুশি হন। মেয়ের কাছে পর্দার ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী ও হাদীস শুনান।

৪. মেয়ের কাছে সফল পর্দানশীল মহিলাদের কাহিনী বর্ণনা করুন। শুরু করুন নবীর স্ত্রীদের দিয়ে, তাঁদের পরে আরো যারা সফল নারী ছিলেন, বর্ণনা করুন বর্তমান যুগের সফল পর্দানশীল নারীদের ইতিহাস।

৫. মেয়েদের সামনে তুলে ধরুন যারা পর্দা করে না তাদের লাঞ্চিত হওয়ার কাহিনী। আর যারা পর্দা করে তাদের সম্মানের কথা, মর্যাদার কথা।

৬. একজন সৎ ও আদর্শ মেয়ের আচার-আচরণ কী হবে তা আপনার মেয়ের সামনে তুলে ধরুন। তুলে ধরুন সর্বদা ভাল কাজ করার সওয়াব ও আল্লাহর কাছে ইসলামী আদর্শে জীবন যাপনকারী মহিলার মর্যাদা।

৭. সৎ, ভদ্র, পর্দানশীল ও লজ্জাবতীকে বান্ধবী হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আপনার মেয়েকে উৎসাহ প্রদান করুন। কেননা, একজন বন্ধুর উত্তম গুণাবলীর দ্বারা অপর বন্ধু প্রভাবিত হয়।

৮. আপনার স্ত্রীর উত্তম গুণাবলীগুলো আপনার মেয়ের সামনে উপস্থাপন করুন। আপনার সহধর্মিণীকে বলুন, তিনি যেন মেয়েকে নিয়ে বিশেষভাবে পর্দার আলোচনা করে, তাতে অভ্যস্ত করায়।

৯. পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত ইসলামিক প্রবন্ধ পড়ুন, আলোচনা দেখুন ও শুনুন, যা আপনাদের ইসলামের ছায়াতলে জীবন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১০. পর্দা পালনের জন্য আপনি আপনার মেয়ের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করুন। আর এ সুসংবাদ দিন যে, পর্দা গ্রহণের মাধ্যমে ইসলামী জীবন যাপনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় পুরস্কার হচ্ছে জান্নাত!

মূল: খালিদ রূশাহ্, অনুবাদক: বি.এ. (অনার্স) ১ম শ্রেণিতে ১ম, এম.এ. (থিসিস) ১ম শ্রেণিতে ২য়, আরবী বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। অফিসার, শরী‘আহ্ সেক্রেটারিয়েট, এক্সিম ব্যাংক।

qaominews.com/কওমীনিউজ/এএন

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ