প্রচ্ছদ রাজনীতি, স্লাইডার

ভারতকে মুসলিমশূন্য করার হিন্দু ষড়ন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের ইসলামী অঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড়

স্টাফ রিপোর্টার | শুক্রবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 767 বার

ভারতকে মুসলিমশূন্য করার হিন্দু ষড়ন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের ইসলামী অঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড়

ভারতের উগ্রবাদী বিজিপি হিন্দু সরকার আসামের মুসলমানদের নাগরিত্ব হরণ, তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে আখ্যায়িত করে বিতাড়নের প্রক্রিয়াসহ গো হত্যার নামে মুসলমানদের ব্যাপকভাবে হত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের  রাজনৈতিক ও ইসলামিক অঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ভারতের হিন্দুদের এমন সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী তৎপরতার নিন্দা জানান। সংগঠনগুলোর মধ্যে হচ্ছে, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

ইসলামী ঐক্যজোট

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন যে, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম থেকে মুসলমানদেরকে বিতাড়নের জন্যে ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় ও আসাম প্রাদেশিক বিজেপি সরকারের পারিকল্পনা মোতাবেক জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের নামে আদম শুমারী থেকে মুলমানদের বাদ দেয়া হয়েছে।

তিনি এই পরিকলপনার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের এই ক্রিয়ার বিরুদ্ধে সমান বিপরীত প্রতিক্রিয়া অনিবার্য হয়ে উঠবে। তাছাড়া খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত বাংলাদেেেশর বিরাট ভূখন্ড ভারতকে দিয়ে দেয়ার জন্যে বিজেপি নেতা সুব্রামনিয়ামের দাবি করেন। কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী যখন দিল্লীর আধিপত্য ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির শৃংখলমুক্ত হওয়ার আকাংখায় জেগে উঠেছে, সেই মহুূর্তে বিজেপি সরকারের আসাম থেকে মুসলিম বিতাড়ন এবং সুব্রামনিয়ামের এই ধরনের বক্তব্য কাঁচের ঘরে বাস করে অন্যের দিকে ঢিল ছোড়ার সামিল। বাংগালী মুসলমানদের অনুপ্রবেশের মিথ্যা অজুহাতে আসাম থেকে মুসলিম বিতাড়ন ও বাংলাদেশের ভূখন্ড ভারতকে দিয়ে দেয়ার দাবিকে ধৃষ্ঠতামূলক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন যে, বরং ভারত বিভক্তির সময় মুর্শিদাবাদ ও করিমগঞ্জসহ যেসব অঞ্চল তদানিন্তন পাকিস্তান ও আজকের বাংলাদেশের অংশ ছিল, সেসব অঞ্চল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

খেলাফত আন্দোলন

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ভারতের আসাম রাজ্যে ষড়যন্ত্র মূলক ১ কোটি ৯০ লাখ নাগরিকের তালিকা প্রকাশ ও মুজাফ্ফর নগরে বিজেপি নেতা বিক্রম সাইনির “বক্তব্য ভারত শুধু হিন্দুদের দেশ, যারা হিন্দু ধর্ম অনুসরণ করছে ভারত শুধু তাদের”এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ ও চিন্তা মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। ভারতের মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। বিশ্বের সকল মুসলমান ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্রের উচিত জবাব দিবে ইনশাআল্লাহ। বিজেপি নেতার বক্তব্য প্রমাণ করে সে ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ। কেননা মুসলমানরাই ১ হাজার বছর ভারত শাসন করেছে এবং মুসলমানরাই ইংরেজদের হাত থেকে ভারতকে স্বাধীন করেছিল। সে মুসলমানরা ভারতের নাগরিক না এমন কথা পাগলের প্রলাপ।

আজ সকালে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নুরিয়া মাদরাসায় ওলামায়ে কেরামের সাথে মতবিনীময় কালে তিনি এইসব কথা বলেন, এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমীর হাজী মাওলানা ফারুক আহমাদ, মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মুফতি মুজীবুর রহমান, মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা সুলতান মহিউদ্দিন, মাওলানা সানাউল্লাহ ও মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী প্রমুখ।

ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই আসামকে মুসলিমশূণ্য করার ভারতীয় চক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আসামকে মুসলিমশূন্য করার ভারতীয় চক্রান্ত রুখে দাড়াতে হবে। এ চক্রান্ত বন্ধ না করলে বাংলাদেশসহ বিশ্বমুসলিম আবারো প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ক্ষমতার মোহে মত্ত হয়ে ভারত সরকার এখন মুসলমানদের অবদান অস্বীকার করছে। যা মেনে নেয়া যায় না। এসব পদক্ষেপ ও চিন্তা মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। ভারতের মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, বিশ্বের সকল মুসলমান ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্রের উচিত জবাব দিবে ইনশাআল্লাহ। জন্মগতভাবে আসামের আদিবাসী অসংখ্য মুসলমানের নাম এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা দুরভিসন্ধিমূলক ও পরিকাল্পিত বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে অতি দ্রুত ভারতের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে।

qaominews.com/কওমীনিউজ/বি/এইচ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ