• শনিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    ভাঙছে অভিসার, প্রমাদ গুনছেন প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা

    বিনোদন ডেস্ক | ০৭ জুন ২০২০ | ৬:২১ অপরাহ্ণ

    ভাঙছে অভিসার, প্রমাদ গুনছেন প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা

    দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতেও পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রভাব। অন্যসব কিছুর মতো ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ সিনেমা সংশ্লিষ্ট শুটিং ও সিনেমা হলগুলো। ৩১ মে থেকে সরকারি সিদ্ধান্তে ধীরে ধীরে সবকিছু সীমিত পরিসরে চালু হলেও সিনেমা হলগুলো খোলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যদি কোনো একটি প্রেক্ষাগৃহ খোলাও হয়, তবে সেখানে দর্শক সমাগম হওয়া নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।

    সেই শঙ্কা থেকেই অনেক হল মালিক আর সিনেমা ব্যবসা করতে চাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। সে রকম একটি হচ্ছে রাজধানীর পুরনো একটি সিনেমা হল ‘অভিসার’। ২৬ কাঠা জায়গাজুড়ে নির্মিত এ সিনেমাহলটি ভেঙে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে। বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত করেছেন হলটির মালিক সফর আলী ভূঁইয়া।


    তিনি বলেন, ‘ঢাকাই সিনেমার দুর্দিন চলছে আরও অনেক আগে থেকেই। কোনো রকমে বেঁচে আছে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। কারণ সারা বছরে ব্যবসা সফল সিনেমা খুঁজে পাওয়া যায় না।

    ‘৫২ সপ্তাহের বছরে ছবি হিট হয় হাতেগোনা এক-দুটি। তার মধ্যে হানা দিয়েছে করোনা। আর কত লস গুণব! তাই বাধ্য হয়ে এত বড় একটি জায়গা অযথা ফেলে রাখতে চাচ্ছি না।’


    তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে এখানে। এ ভবনে একটি কমিউনিটি সেন্টার থাকবে। পাশাপাশি অন্য তলায় ব্যাংক-বীমা ও সায়েন্টিফিক সরঞ্জাম বিক্রির দোকান ভাড়া দেয়া হবে।’

    তবে সিনেমাহল ভেঙে ফেললেও সিনেমা ব্যবসা থেকে একেবারেই দূরে থাকবেন না বলে জানিয়েছেন সফর আলী ভুঁইয়া।


    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তো অবশ্যই আছে। সেটা আছে বলেই এতদিন লোকসান দিয়েও সিনেমা হল চালু রেখেছি। তাই প্রায় ৫২ বছরের পুরনো অভিসার ভেঙে ফেলা হলেও স্মৃতি হিসেবে ভবনে দেড়শ’ আসনের ছোট একটি সিনেমা হল রাখার পরিকল্পনা আছে আমাদের।’

    প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালের দিকে ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিনের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় অভিসার। ১৯৯২ সালে দেনার দায়ে কে এম আর মঞ্জু ও সফর আলী ভূঁইয়ার কাছে অভিসার বিক্রি করেন। কেনার পর অভিসারের ওপর ‘নেপচুন’ নামে আরেকটি সিনেমাহল তৈরি করেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেমা ব্যবসা মন্দা ও করোনাভাইরাসের প্রভাবে সেসব ভেঙে নতুন করে ভিন্ন কিছু গড়তে যাচ্ছেন তারা।

    এদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসা মন্দার কারণে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা সিনেমা হলটি ভেঙে ফেলা হবে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি হলটির মালিক ইফতেখারউদ্দিন নওশাদ।

    তিনি বলেন, ‘সিনেমার ব্যবসা মন্দার কথা তো সবাই জানেন। এখন মানুষ আতঙ্কে আছেন। দিনে দিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর তালিকা বেড়েই যাচ্ছে। এখন সবকিছু খুলে দেয়ার কারণে কিন্তু আরও বাড়বে।

    ‘এমন পরিস্থিতিতে হল খুললেও দর্শক আসবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া ভালো ছবিও নেই।’

    তিনি বলেন, এমনিতেই হলের অবস্থা তিন-চার বছর ধরে খারাপ যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে আরও বেশি খারাপ হয়ে গেল। এক কথায় এই শিল্পের কফিনে যেন শেষ পেরেক ঠোকা হল।

    নওশাদ বলেন, আমাদের এখান থেকে উত্তরণ করতে হবে। এর জন্য অনেক সময় লাগবে। ভালো ভালো ছবি না এলে হলের ব্যবসা দাঁড়াবে না, আগের মতো হবে না।

    ‘তাই এই মুহূর্তে হল মালিকদের দরকার সরকারের প্রণোদনা। সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। নাহলে হল ভেঙে ফেলা ছাড়া আমাদের কিছুই করার থাকবে না। ব্যবসা না থাকলে নিশ্চয়ই আমি এতবড়ো একটি সিনেমা হলের খরচ মাসের পর মাস চালাতে পারব না। বিষয়টি সময়ের উপর নির্ভর করছে।’

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৬:২১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৭ জুন ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2020 qaominews.com all rights reserved