• বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    বিএসএফ-বিজিবি রেষারেষি কীসের ইঙ্গিত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২২ জুলাই ২০২০ | ১২:০৬ অপরাহ্ণ

    বিএসএফ-বিজিবি রেষারেষি কীসের ইঙ্গিত

    ছবি: সংগৃহীত

    ভারত থেকে চোরাই পথে বাংলাদেশে গরু পাচার অনেক পুরোনা ঘটনা। যা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের সীমান্ত বাহিনী বিএসএফ এই চোরাচালানের জন্য বাংলাদেশের বিজিবি’কে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে। যার প্রতিবাদও জানিয়েছে বিজিবি। তবে বিবৃতি দিয়ে বিএসএফের মতো একটি বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি নজিরবিহীন ঘটনা। যা নিয়ে বিস্ময় তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। এমন খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

    এ বিষয়ে বিজিবি’র সাবেক প্রধান লে.জে. (অব) মইনুল ইসলাম বলেন, প্রকাশ্যে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে এক বাহিনী আরেকটি বাহিনীকে চোরাচালানে জড়িত থাকার জন্য দায়ী করার এই ঘটনায় তিনি বিস্মিত।


    তিনি আরো বলেন, ‘বিএসএফ কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করেনি, প্রতিবেশী দেশের একটি পুরো বাহিনীকে দায়ী করেছে। এটা যেমন অস্বাভাবিক তেমনি অন্যায়। ফলে বিজিবির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি জারি করা যথাযথ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

    তবে এ ধরনের বিবৃতি বিএসএফ’র মতো বাহিনী দিতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে এই বিবৃতির পেছেনে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও কাজ করেছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে লে.জে (অব) মইনুল ইসলাম বলেন, গরু চোরাচালান নিয়ে ৬ই জুলাই প্রকাশিত বিএসএফ’র ওই ‘অস্বাভাবিক’ বিবৃতি এককভাবে ওই বাহিনী দিতে পারেনা। এর পেছনে ভারত সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কাজ করেছে।


    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তে নানারকম মতবিরোধ রুটিন ব্যাপারে। স্থানীয়ভাবে তার সমাধান হয়। গুরুতর মতবিরোধ দেখা দিলে কূটনৈতিক পর্যায়ে তার সমাধানের চেষ্টা হয়। আমি বুঝতে পারছি না কেন ভারত সরকার একটি বর্ডার ফোর্সকে দিয়ে এমন সব কথা বলাতে গেল!’

    মইনুল ইসলামের ধারণা, চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চুপ থাকার জন্য বাংলাদেশের ওপর ভারত হয়তো কোনো চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।


    তিনি বলেন, ‘চীন-ভারত সীমান্ত সংঘাত নিয়ে ভারতের প্রতিবেশীরা কেউ কোনো কথা বলেনি। ভারত হয়ত এটা ভালোভাবে নেয়নি, এটা হতে পারে চাপ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।’

    প্রসঙ্গত, চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছে। এর আগে কাশ্মীরে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় ভারতীয় সৈন্যের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার দ্রুত সহমর্মীতা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। কিন্তু গালওয়ানে ২০ জন ভারতীয় সৈন্যর মৃত্যু নিয়ে চুপ ছিলো ঢাকা। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ভারত সরকার এবং ভারতীয় সমাজ-রাজনীতির একটি অংশের মধ্যে প্রতিবেশীদের এই ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন সাময়িকী ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে অর্চনা চৌধুরী এবং বিভুদত্ত ওরাধান লিখেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদি যদি আশা করে থাকেন বিপদের সময় তিনি প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সমর্থন পাবেন, তিনি ভুল ভেবেছিলেন। যেখানে তাদের সৈন্যের নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বা ব্রিটেন সমবেদনা জানিয়েছে, ট্র্যাডিশনাল মিত্র বাংলাদেশ এবং নেপাল সেখানে ছিলো নিশ্চুপ।’

    ওই প্রতিবেদনে আরো লেখা হয়, নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় দফার শাসনে তার ‘কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডায় প্রতিবেশীদের মধ্যে ভয়, সন্দেহ অস্বস্তি ঢুকেছে।’ এটা সবারই জানা যে, ভারতে এনআরসি এবং ধর্মের ভিত্তিতে করা সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বাংলাদেশ একেবারেই খুশি নয়।

    তবে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরির বিষয়টিকে মানতে নারাজ দিল্লির জওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদোয়াজ। তিনি বলেন, চীন-ভারত বিরোধে পক্ষ নেয়ার জন্য ভারত বাংলাদেশের ওপর বড় কোনো চাপ তৈরি করবে বলে তিনি মনে করেন না।

    অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদোয়াজ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, গরু চোলাচালান নিয়ে বিএসএফের বিবৃতির সাথে ভারত সরকারের বৃহত্তর নীতির কোনো সম্পর্ক নেই। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে গরু চোরাচালান কমাতে তারা প্রকাশ্যে কথা বলছে, গরু চোরাচালান অনেকের কাছে আর দশটি ব্যবসার মত একটি ব্যবসা, কিন্তু অনেকের কাছে গরু এটি একটি ধর্ম বিশ্বাস।’

    তিনি আরো বলেন, আঞ্চলিক বড় দুই শক্তির বিরোধে ছোটো দেশগুলো যে চুপ থাকবে, এই বাস্তবতা ভারতের নীতি-নির্ধারকরা বোঝেন।

    সঞ্জয় ভরদোয়াজ বলেন, ‘চীন-ভারত বিরোধ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ছোটো দেশগুলো ভেতরে ভেতরে হয়তো খুশি। তারা মনে করছে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একাধিপত্যকে চীন চ্যালেঞ্জ করছে। তারা মনে করছে ভারতের সাথে সম্পর্কে একটা ভারসাম্য তৈরি করার ক্ষেত্রে এটা তাদের একটি সুযোগ। শীতল যুদ্ধের সময় এটা দেখা গেছে। এটা খুবই স্বাভাবিক একটি মনস্তত্ব। আমার মনে হয় ভারতের নীতি-নির্ধারকরা তা বোঝেন।’

    অধ্যাপক ভরদোয়াজ বলেন, চীন পরোক্ষাভাবে সেই ভারসাম্য তৈরিতে সাহায্য করছে। ভারত যদি বাংলাদেশের মত দেশের কাছ থেকে এসময় আনুগত্য প্রত্যাশাও করে, তার জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরির ঝুঁকি নেবেনা।

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশকে হারানোর কোনো ঝুঁকি ভারত এখন নেবেনা। তাছাড়া, চীনের সাথে বাফার স্টেট হিসাবে নেপাল বা ভুটানকে নিয়ে ভারতের যে উদ্বেগ, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ততটা নেই।’

    অধ্যাপক ভরদোয়াজ মনে করেন, ‘ভারত এখনো চীনের সাথে পুরোপুরি বিরোধে জড়াতে অনিচ্ছুক। অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এখনো চীনকে একটি সুযোগ হিসাবে দেখে ভারত।’

    তিনি আরো বলেন, ‘নিরাপত্তার উদ্বেগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক চাইছে ভারত। কিন্তু ভারত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্লায়েন্ট স্টেট হতে অনিচ্ছুক। সেজন্য ইন্দো-প্যাসিফিক জোটে পুরোপুরি ঢোকার ব্যাপারে ভারতের মধ্যে এখনো দ্বিধা রয়েছে।’

    কওমীনিউজ/মুনশি

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ১২:০৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement
    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2020 qaominews.com all rights reserved