• বুধবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    প্রকাশনা শিল্পে করোনার ধাক্কা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ জুলাই ২০২০ | ৩:১৩ অপরাহ্ণ

    প্রকাশনা শিল্পে করোনার ধাক্কা

    ছবি: প্রতীকী

    করোনা ভাইরাস দুর্যোগের প্রায় শুরু থেকে সৃজনশীল বইয়ের ব্যবসা ভালো নয়। বইয়ের বিক্রি প্রায় বন্ধই বলা চলে। বই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মধ্যে না পড়ায় বই কেনার চিন্তা মানুষের একটু পরে আসে। আর যেখানে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে বই কেনার চিন্তা অনেকের মাথায়ই আসে না। এ কারণে করোনাভাইরাস দুর্যোগে ধুঁকছে সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্প। এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকে টিকে থাকার লড়াই করছেন।

    এছাড়া অন্যসব বছরে এ সময়ে প্রকাশকরা পরবর্তী গ্রন্থমেলার জন্য কাজ শুরু করেন। কিন্তু এবার তারা এখনও বুঝে উঠতেই পারছেন না তারা কী করবেন। আর করোনা পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি আগামী মেলা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে।


    সৃজনশীল প্রকাশনার বর্তমান অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতিমান প্রকাশক মফিদুল হক বলেন, সৃজনশীল প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত মানুষ ভালো নেই। মুজিববর্ষও তেমনভাবে উদ্যাপনই করা যাচ্ছে না। আমরা নানা মহলে বলার চেষ্টা করেছি মুজিববর্ষের এ সময়ে যদি দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের জন্য মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতাবিষয়ক বই কেনা হয়, তাহলে এটি একটি মহৎ কাজ হতে পারে। আমরা বলেছি, ৩০০ কোটি টাকার বই কেনা যেতে পারে। এতে মুজিববর্ষের আদর্শগত দিকটি যেমন মাত্রা পায়, ঠিক একইভাবে সৃজনশীল প্রকাশনাগুলোও টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রাণ পাবে।

    এ ব্যাপারে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ও অন্যপ্রকাশেরর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, সৃজনশীল প্রকাশকদের নাভিশ্বাসের দশা। শুধু তারাই নন, এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছাপাইখানার কারিগর, বাইন্ডার, কাগজ বিক্রেতা, রং বিক্রেতা- কেউই ভালো নেই। কারণ, বই এসেনশিয়াল গুডস না হওয়ায় এটি ক্রয়ের চিন্তা মানুষ একটু পরেই করে। শিল্পটিকে তাই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে সরকারিভাবে প্রণোদনা ও অনুদান দুটোই প্রয়োজন।


    সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পের মধ্যে বড়, মাঝারি ও ছোট- সব ধরনেই প্রকাশনা সংস্থা রয়েছে। বড় প্রকাশনাগুলোর কেউ কেউ মুদ্রণ ও অন্যান্য শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত। যারা মাঝারি, তারাও নানা কায়দায় টিকে আছেন। কিন্তু যারা একেবারেই এ ব্যবসানির্ভর, তাদের অনেকেরই অবস্থা বেশ খারাপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা অনেকে ধারদেনা করে চলছি। কিন্তু এভাবে আর সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। করোনা দুর্যোগে সাধারণ ছুটির সময় বইয়ের কোনো বিক্রিই ছিল না। সাধারণ ছুটি উঠে যাওয়ার পর বইয়ের বিক্রি টুকটাক শুরু হয়েছে। কিন্তু তা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় একেবারেই কম। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের প্রকাশক আদিত্য অন্তর বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার এ সময়ে বইয়ের বিক্রিতে ৯০ শতাংশই ধস। তাই আমরা এখন অনলাইনভিত্তিক বই বিক্রির দিকে জোর দিচ্ছি। তবে সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হল- অন্য বছর এ সময়টাতে আমরা আগামী গ্রন্থমেলার জন্য কাজ শুরু করি। সেই জায়গায় আমরা অনেকটাই বসে আছি। কী হয়, পরিস্থিতি কোনদিকে যায়, সেজন্য অপেক্ষা করছি। শুধু ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশই নয়, অনেক প্রকাশনা সংস্থার সামনে কী হয়, সেদিকে তাকিয়ে আছেন। কেউ কেউ আগামী গ্রন্থমেলার জন্য কাজ শুরু করলেও বেশির ভাগই এখনও তা শুরু করেননি। অনেকে বলছেন, লেখকদের হাতে প্রচুর পাণ্ডুলিপি থাকার পরও আগামী গ্রন্থমেলায় বই প্রকাশের সংখ্যাও কমে আসতে পারে। কারণ প্রকাশনাগুলো অনেক বুঝেশুনে তারপরই বিনিয়োগে যাবে।

    সৃজনশীল প্রকাশকদের বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ আসে অমর একুশে গ্রন্থমেলার বইয়ের বিক্রি থেকে। সেদিক থেকে করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হলে আগামী বছর গ্রন্থমেলা আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।


    বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে- এটাই আমরা আশা করি। কিন্তু না হলে কী হবে? স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, সেটা তো লোকসমাগমে সম্ভব নয়। আর গ্রন্থমেলা মানেই লোকসমাগম। তাই আগামী গ্রন্থমেলা সামনের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। শুধু তা-ই নয়, এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের নানা দিক জড়িত। আমরা সেগুলো মেনেই সিদ্ধান্ত নেব।

    এদিকে দীপনপুর, কবিতাক্যাফের মতো কিছু বুকশপ বন্ধ করে দেয়া হতে পারে- এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে কিছুদিন আগে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্মিলিত নানা উদ্যোগের মাধ্যমে সেগুলোকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। এ ব্যাপারে এগিয়ে এসেছে সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও।

    কওমীনিউজ/মুনশি

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৩:১৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আগে আমি বলতাম…

    ১৭ জুলাই ২০২০

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2020 qaominews.com all rights reserved