প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক, স্লাইডার

পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরে আসছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 462 বার

পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরে আসছেন

খ্রিষ্টধর্মের সব্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এ মাসের শেষে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তার এ সফরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা বড় রকম গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি সে দু’টি দেশ সফর করবেন যার একটি থেকে নিপীড়িত রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে, আর অন্যটিতে তারা আশ্রয় নিচ্ছে। তবে এ সফরে তিনি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি পরিহার করবেন। পোপ ফ্রান্সিস ২৭ থেকে ৩০ নভেম্বর মিয়ানমার এবং ৩০ থেকে ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সফর করবেন।

নিপীড়িতদের পক্ষে সোচ্চার কন্ঠ পোপ নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলার জন্য চাপের মুখে রয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় ক্যাথলিক চার্চ জানায়, ক‚টনৈতিক সঙ্কট এড়াতে পোপ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান জায়েদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, রোহিঙ্গারা হচ্ছে জাতিগত নিধনের দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণের শিকার। বাংলাদেশ ক্যাথলিক চার্চের নেতা কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও রোহিঙ্গাদের উপর হামলাকে মানবতার প্রতি হুমকি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে মিয়ানমারের অধিকাঙ্ক লোক বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জন্য রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্রোহীদের দায়ী করে। আর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ জনগণ দারিদ্রগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করেনি এবং তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসী হিসেবে দেখে যে কারণে রোহিঙ্গারা আজ রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠি।

সফর-পূর্বের এক ভিডিও বার্তায় পোপ ফ্রান্সিস বলেন, তিনি মিয়ানমারের জনগণের সাথে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করতে পারছেন না। তবে তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি পরিহার করেন। তিনি বলেন, তিনি সকলের মঙ্গলের জন্য সম্প্রীতি ও সহযোগিতা সৃষ্টির যে কোনো প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে মিয়ানমারে যাচ্ছেন।

পোপ কার্যক্ষেত্রে আরো নিস্পৃহ হতে পারেন। তিনি গত আগস্টে তার ভাষায় ‘আমাদের রোহিঙ্গা ভাইদের উপর নিপীড়নের’ নিন্দা করেছিলেন। প্রথম মহাযুদ্ধকালে আর্মেনিয়ায় গণহত্যাকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করে তুরস্কের সাথে গত বছর ঝগড়ায় লিপ্ত হতে তার ভয় ছিল না।

মিয়ানমারে ক্যাথলিক চার্চের শীর্ষ প্রতিনিধি কার্ডিনাল চার্লস বো গত সপ্তাহে ভ্যাটিকান রেডিওকে বলেন, পোপের সফর বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির যে লড়াই চলছে, সে গৃহযুদ্ধ থামাতে আসলেই সাহায্য করতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

নোবেল পুরস্কার জয়ী ও মিয়ানমারের কার্যত বেসামরিক নেত্রী অং সান সু কির সাথেও পোপ বৈঠক করবেন। তিনি প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথেও সাক্ষাত করবেন।
২০১৫ সালে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ব পর্যন্ত মিয়ানমারে সামরিক জান্তা ক্ষমতাসীন ছিল। মাত্র মে মাসে ভ্যাটিকানের সাথে মিয়ানমারের ক‚টনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ভ্যাটিকানের তথ্যমতে, মিয়ানমারের ৫ কোটি ১৮ লাখ জনসংখ্যার ১,.৩ শতাঙ্ক মাত্র ক্যাথলিক।

qaominews.com/কওমীনিউজ/এইচ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ