• শনিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    বেফাকের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে

    পর্দার আড়াল থেকে আন্দোলনের হুমকি!

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ জুলাই ২০২০ | ৯:১২ অপরাহ্ণ

    পর্দার আড়াল থেকে আন্দোলনের হুমকি!

    ছবি: সংগৃহীত

    ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে এলেও এবার এক নজিরবিহীন আন্দোলনের ডাক দিতে দেখা গেল কওমি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। বেফাকের (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ) বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শীঘ্রই মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। মহাসচিবসহ অভিযুক্তদের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ‘কওমী ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন। যদিও সংগঠনটির নেতৃত্বে কারা রয়েছেন, সেটি এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

    দাবি মানা না হলে সংগঠনটি শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাদ আসর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে মানববন্ধন করবে। সেখান থেকে আসতে পারে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা। তবে আপাতত ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। পর্দার অন্তরাল থেকেই কে বা কারা অব্যাহতভাবে দিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনের হুমকি।


    সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যারা এই আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে তাদের কথা অনেকাংশে সত্য হলেও মতলব খারাপ। কওমি আলেমদের ভেতরগত বিষয়গুলোকে পাবলিকের সামনে এভাবে প্রচার করাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, এমন এক সংগঠনের ব্যানারে এই ‘উস্কানিমূলক’ জিনিসগুলো ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে যাদের কেউ চিনে না, জানে না। তারা আসলে কী চায়, কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে কাদেরকে বসাতে চায় কওমির নেতৃত্বে?

    প্রসঙ্গত, কয়েকটি ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরেই কওমি আলেমদের মধ্যে তোলপাড় চলছে। কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মেধা তালিকা নিয়ে সিরিয়াল জালিয়াতি, পরীক্ষার কেন্দ্র নিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে এসব ফোনালাপে।


    ফাঁস হওয়া চারটি অডিও ক্লিপের একটিতে বেফাকের মহাসচিব ও আল হাইয়াতুল উলইয়ার ভারপ্রাপ্ত কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল কুদ্দুস এবং বেফাকের পরীক্ষানিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফ, আরেকটিতে বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা আনাস মাদানী ও বেফাকের পরীক্ষানিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের কথোপকথন রয়েছে। আরও পাওয়া গেছে বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফ এবং ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস, বেফাকের পরীক্ষা বিভাগের অতিথি কর্মকর্তা মাওলানা আবদুল গনীর মধ্যকার নানা বিষয়ে কথোপকথন।

    এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২০) বরখাস্ত হন- পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফ, ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল গণী ও বেফাকের পরিদর্শক মাওলানা ত্বহা। বরখাস্ত তিনজনই বেফাক মহাসচিবের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। তন্মধ্যে পরীক্ষা বিভাগে কর্মরত ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল গণী বেফাক মহাসচিবের মাদরাসার শিক্ষক এবং সম্পর্কে মাওলানা আবদুল কুদ্দুসের চাচা।


    বেফাকের ওই মিটিংয়ে মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুসকে পদত্যাগ করতে বলা হলেও তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান। তাকে সমর্থন করেন মাওলানা আনাস মাদানী এবং মাওলানা সাজিদুর রহমান। মহাসচিব এ সময় বলেন, আমি এভাবে পদত্যাগ করবো না। আমি এখান থেকে কয়েকজনকে নিয়ে গিয়ে হাটহাজারী হুজুরের সাথে কথা বলবো।

    এদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ফোনালাপে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ পর্যন্ত বেফাকে হওয়া সব অনিয়মের বিচার করতে হবে। যদিও গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    কওমীনিউজ/মুনশি

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৯:১২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2020 qaominews.com all rights reserved