• শুক্রবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    নূর হোসাইন কাসেমী নিজেই তো বেফাক থেকে বহিস্কৃত: মাওলানা আবদুল গনি

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ জুলাই ২০২০ | ১০:১৪ অপরাহ্ণ

    নূর হোসাইন কাসেমী নিজেই তো বেফাক থেকে বহিস্কৃত: মাওলানা আবদুল গনি

    ছবি: সংগৃহীত

    কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর দায়িত্বশীলদের অনেকের ফোনালাপ ফাঁস ও বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে সরগরম ফেসবুক অঙ্গন। গত প্রায় ১৫/২০ দিন ধরেই কওমী অঙ্গনের ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্টরা এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কথা বলে আসছেন। এসব নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনার মধ্যেই গত ১৪ জুলাই বেফাক অফিসে খাস কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো বেফাকের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে দেয়া।

    কিন্তু তারপরও ফেসবুকের একদল কওমি তরুণরা এ বিষয়ে তাদের অভিযোগ সরায়নি। বরং আরও অনেকের শাস্তি দাবি করে কোন একটি অজানা মহল বায়তুল মোকাররমের সামনে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিল গত শুক্রবার। কিন্তু পরবর্তীতে সেই কর্মসূচি বাতিল করা হয়। বহিস্কার হওয়া ব্যক্তিদের একজন মাওলানা আবদুল গনি। তার বক্তব্য সাক্ষাতকার আকারে শ্রুতিলিখন করেছেন হোসাইন আমিন নামের ফরিদাবাদের একজন ছাত্র। এখানে তা হুবহু তুলে ধরা হলো –


    হোসাইন আমিন: হুজুর একটা খবর শুনলাম, যাতে খুব ব্যথিত হলাম বাস্তবতা জানার জন্য আপনার শরণাপন্ন হলাম।

    মাওলানা আবদুল গনি: কি আর শুনছো আমাকে বহিষ্কার করেছে এটাই তো? লজ্জা পাও কেন, বললেই তো পারো যে আপনাকে বহিষ্কার করেছে সে খবর আমরা শুনেছি। …এরপর একটি হাসি দিয়ে বলতে লাগলেন আমি তো বেফাকের কর্মচারী না আমাকে কিভাবে বহিষ্কার করল?


    হোসাইন আমিন: যদিও আপনি বেতনভুক্ত কর্মচারী নন তবুও পরীক্ষার সময়গুলোতে বেফাকের কাজ করতেন এবং নিরীক্ষণ কমিটিতে হয়তো আপনার নাম আছে সাময়িক হলেও একটি পদ আপনার ছিল।

    মাওলানা আবদুল গনি: আরে না, আমরা কোন পদ-পদবীর লোক না আমরা ছিলাম বদিল্লা। (বিনা পারিশ্রমিকে খেটে কাজ করা) …বেফাকের প্রায় শুরু জামানা থেকেই বদিল্লা দিয়ে আসছি। আর যখন বেফাকের টাকা ছিলো না তখন নিজের খেয়ে কাজ করছি এখন তো বেফাকের অনেক টাকা হয়েছে এখন হয়তো আমাদের প্রয়োজন নেই তাই এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।


    হোসাইন আমিন: আপনি তো এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করলেন না…
    আবদুল গনি: প্রতিবাদ করার উদ্দেশ্য হলো আমি আবার বেফাকে ফিরে যেতে চাই, কিন্তু বাস্তবতা হলো আমি চারবছর আগ থেকেই বেফাক থেকে সরে যেতে চাচ্ছিলাম কিন্তু বেফাক আমাকে ছুটি দিচ্ছিল না। এবার যেহেতু ছুটি পেলাম আর সেখানে যাব না এই সুযোগটা আমার জন্য আল্লাহর রহমত।

    হোসাইন আমিন: যদি আপনি বেফাক থেকে চলে আসেন তাহলে ইস্তফা দিয়ে স্ব-সম্মানে বিদায় নিয়ে আসুন। কিন্তু এখন যেই হালতে (অবস্থায়) বের হয়ে আসলেন এটাতো দোষণীয় একটা বিষয়। এই দুর্নীতির ট্যাগ ঘাড়ে নিয়ে কেন আপনি চুপ করে বসে থাকবেন?

    আবদুল গনি: হয়তো আমি এটার যোগ্য ছিলাম, তাই আমার সাথে এমন করা হয়েছে। যদি ভাল লোক হতাম তাহলে তো আর এমনটা করত না। তবে দুঃখের বিষয় হল বাদী-বিবাদী উপস্থিত না করে কাজী সাহেব একা বিচার করে ফেলেছেন, এটা কিভাবে সম্ভব হল? যদি আমার ব্যাপারে কোন কথা আসে তাহলে যে বলবে সেই উপস্থিত থাকতে হবে এবং আমাকে উপস্থিত রাখতে হবে দু’জনের কথা শুনে কাজি বিচার করবেন কিন্তু এই বিচারের তো কোন আগামাথা দেখি না। ….আমি জানিই না যে আমার নামে বিচার চলছে। তারপর কথা হল যদি আমি ফলাফল দুর্নীতি করতাম তাহলে এটা ধরা অনেক সহজ, কারণ পরীক্ষার খাতাগুলো এখনো জমা আছে। সে যে নাম্বার পেয়েছে তার খাতায় তেমন লেখা আছে কিনা সেটা তদন্ত করে যাচাই করবে। যদি বাস্তবতা মিল পাওয়া যেত তাহলে তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতো; তাতে আমার কোনো কথা ছিল না। কিন্তু এমন বিচার তাদেরকে কে শিখাইলো আল্লাহ মালুম!

    হোসাইন আমিন: এই কথাগুলি যদি আপনি বিবৃতি দিয়ে বলতেন তাহলে সত্যটা প্রকাশ পেতো।
    আবদুল গনি: কার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিমু? আমার লোকেরাই তো আমাকে বহিষ্কার করেছে।

    হোসাইন আমিন: সেদিন মজলিসের প্রধান ছিলেন মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মহাসচিব সাহেব তো প্রধান ছিলেন না।
    আবদুল গনি: আরে নূর হোসাইন কাসেমী আমারে কীভাবে বহিষ্কার করে? সে নিজেই তো বেফাক থেকে একজন বহিস্কৃত লোক।

    হোসাইন আমিন: এটা আবার কি বললেন আমরা তো এই বিষয়ে কিছু জানিনা না।
    আবদুল গনি: তোমরা তো জানবা না, ইতিহাস আমরা জানি আমাদের কাছ থেকে শোনবে। তবে এগুলো আলোচনা করার মধ্যে কোন ফায়দা নেই, তাই বাদ থাক। তাদেরকে বেফাক চালাতে দাও। তারা চালাতে থাকুক। দেখি কেমন পারে!

    চলমান এই অস্থিরতার সমাধান আসলে কী। তা নিয়ে অনেকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা তেমন কোন উত্তর দিতে পারেননি। তবে কওমি অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন- দেশের মান্যবর এবং পরিচিত ওলামায়ে কেরাম যারা রয়েছেন তারা এ বিষয়টি নিয়ে সামনে এগিয়ে আসা উচিত। যাতে চলমান অস্থিরতার সমাধান করা যায়। তাছাড়া বেশিরভাগ লোকজন মতামত দিচ্ছেন এ বিষয়ে এখন অভ্যন্তরীণ আলোচনা, মিটিং এবং বিভিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে সকল পক্ষকে নিয়ে বসে অতি দ্রুত সমাধান করা উচিত। নয়তো কওমি মাদ্রাসা এবং এই বেফাক বোর্ডসহ সার্বিক এ বিষয়গুলো আরো জটিল আকার ধারণ করবে।

    কওমীনিউজ/মুনশি

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ১০:১৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2020 qaominews.com all rights reserved