• শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    তারেক জিয়ার নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াবে বিএনপি

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১:১৬ অপরাহ্ণ

    তারেক জিয়ার নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াবে বিএনপি

    ছবি: সংগৃহীত

    সকল বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে, নির্যাতন-দমনপীড়নকে জয় করে, শহীদ জিয়ার আদর্শের বিএনপি অতীতে যেমন ঘুরে দাঁড়িয়েছে, নিকট ভবিষ্যতেও এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারকবাহক বিএনপি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সংসদ গঠন করবে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে। আজ ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটাই বিএনপির লাখোকোটি নেতাকর্মী ও সমর্থকের শপথ।

    অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে ৪২ বছর অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি। স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক, অগ্রসর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের ভিত্তিতে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সুসংহত রাজনৈতিক কাঠামো, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সমাজ ব্যবস্থা নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। বিভক্ত সমাজে কাজটি অত্যন্ত কঠিন ছিল। একদিকে বাম, অন্যদিকে ডান রাজনৈতিক ধারা; একদিকে ধর্মীয় রাজনৈতিক প্রভাব, অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষতা- এসব ভিন্নমুখী চিন্তা-চেতনার মানুষকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ঐক্য গড়েন শহীদ জিয়া। তার দূরদৃষ্টি, প্রজ্ঞা, অসাধারণ মেধা, অধ্যবসায় এবং দেশপ্রেমে তিনি এ অসাধ্যকে সাধন করেন।


    বিএনপি প্রকৃতপক্ষেই একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়ার কাজ শুরু করে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারকান ফ্রান্ডা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। কিছুটা এই জন্যে যে, তিনি বাংলাদেশে একটি কার্যকর সরকার গঠন করেছিলেন। তিনি তার নতুন চিন্তা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মাণ করতে শুরু করেছিলেন। জিয়া জনগণকে রাষ্ট্র বিনির্মাণের কাজে উৎসাহ সহকারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি দেশের বাইরে থেকে যে কোনো সামরিক হামলা প্রতিহত করার জন্য জনগণকে তৈরি থাকতে বলেন। বিদেশের দিকে তাকিয়ে না থেকে জনগণকে নিজেদের পণ্য উৎপাদনে অনুপ্রাণিত করেন। নিজ ধর্মের জন্য গর্ববোধ করে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানান।’

    প্রকৃতপক্ষে জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ জেগে ওঠে। বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, মিশ্র অর্থনীতি ও মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা, নতুন উদ্যোক্তা, নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদনের নতুন কর্মযজ্ঞ শুরু করে। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বাংলাদেশের জন্য অপার সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন মানুষকে তার স্বাধীনতা, স্বাতন্ত্র্য, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, জীবন বোধ, ধর্মীয় বোধ রাষ্ট্রচিন্তায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়। এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায়। বিশ্ব রাজনীতিতে শহীদ জিয়া ও বাংলাদেশের নাম মর্যাদার সঙ্গে উচ্চারিত হতে থাকে। বিএনপির শুভসূচনা এখান থেকেই।


    বিএনপির শক্তির উৎস স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করার আকাঙ্ক্ষা থেকে উৎসারিত। এ কারণেই বিএনপি এত জনপ্রিয়। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের মানুষের, তারা শহীদ জিয়ার নেতৃত্ব বেশি দিন পাননি। কিন্তু শহীদ জিয়া জনগণের হৃদয় থেকে উৎসারিত ভালোবাসা এবং বাংলার মাটির যে দর্শন দিয়েছিলেন, তার শক্ত ভিত্তির পর দাঁড়িয়ে বিএনপি।

    জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হলেও বিএনপি থেমে যায়নি। রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ কিন্তু দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের কাছে পৌঁছায়। তিনি বিএনপিকে একেবারে মাটির কাছে নিয়ে যান। দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী লড়াই ও সংগ্রামে নেতৃত্ব বিএনপিকে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য, আস্থাশীল ও কার্যকর রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন খালেদা জিয়া।


    ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতন এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করে। পরের পাঁচ বছরে খালেদা জিয়া সরকার জনগণের কল্যাণে মৌলিক পরিবর্তন আনে। খালেদা জিয়া ক্যারিশম্যাটিক দেশনেত্রীতে অভিষিক্ত হন। রাষ্ট্রপতির শাসন ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, পোশাকশিল্পের প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি ও ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, প্রবাসে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সৃষ্টিসহ সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। ‘৯৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি জোট ১৭৩ দিন হরতাল-অবরোধ করে অচলাবস্থার সৃষ্টি করে। বিএনপি জনমতকে মর্যাদা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান সংবিধানে সন্নিবেশিত করে এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন ঘোষণা করে। যা গণতন্ত্রের ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করে। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে হানাহানি ছাড়াই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি ১১৬টি আসন নিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিরোধী দল গঠন করে এবং সহনশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির সংস্কৃতি সূচনা হয়। যা নিঃসন্দেহে বিএনপির ইতিবাচক রাজনীতির পরিচায়ক। এরপর দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি চারদলীয় জোটকে সঙ্গে নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

    দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, যা বিরল সম্মানের। বিএনপি সরকার ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার করে। প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়ায়। বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করার ভিত্তি তৈরি হয়। বাংলাদেশ এশিয়ার উদীয়মান ব্যাঘ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়।

    ২০০৫ সাল থেকে দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ২০০৭ সাল সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে দিয়ে তথাকথিত সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর বেআইনিভাবে শাসন করে। বিরাজনীতিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধান দুই নেত্রীকে কারান্তরীণ করা হয়। আওয়ামী লীগ আপস করলেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কোনো আপস করেননি। তার অনমনীয় দৃঢ় মনোভাবের কারণে সরকার বাধ্য হয়ে দুই নেত্রীকে মুক্তি দিয়ে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করলেও বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার, হয়রানি, মিথ্যা মামলার কারণে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও নির্বাচনে যেতে হয়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথকে রুদ্ধ করা হয়।

    বিএনপি প্রতিরোধের আন্দোলন শুরু করে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল ওই প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। দেড় শতাধিক প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে সংসদ গঠন করা হয়। সেই নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য না হলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকে।

    এর পরের ইতিহাস সবার জানা। বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপির বিরুদ্ধে দমনপীড়নের স্টিম রোলার চলতে থাকে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার, হয়রানি, সাজা দেওয়া হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এক লাখ মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ পৌঁছায়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে নেওয়া হয়।

    কিন্তু বিএনপি হার মানেনি। তারেক রহমান অসাধারণ সাংগঠনিক যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখেন। তার নেতৃত্বে বিএনপিতে নতুন গতির সঞ্চার হয়। বৃহত্তর ঐক্য গড়তে বিএনপি ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গঠন করে। দেশনেত্রীর মুক্তি এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট ধানের শীষের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়। কিন্তু সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে।

    দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বন্দি, অসুস্থ। ছয় মাস সাজা স্থগিত করায় বাসায় অবস্থান করছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ এক যুগ বিদেশে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে চলেছে।

    বিএনপি অতীতেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সব জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে আবার ঘুরে দাঁড়াবে। অন্ধকারের পরে অবশ্যই নতুন সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত হবে এই সংগ্রামী মানুষের জনপদ বাংলাদেশ।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ১:১৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement
    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2020 qaominews.com all rights reserved