• শুক্রবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    জিয়া আমাকে মন্ত্রী বানাতে চেয়েছিল: রাষ্ট্রপতি

    বাসস | ১৫ আগস্ট ২০২০ | ৮:১৪ অপরাহ্ণ

    জিয়া আমাকে মন্ত্রী বানাতে চেয়েছিল: রাষ্ট্রপতি

    ফাইল ফটো

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর তৎকালীন শাসক জিয়াউর রহমান মন্ত্রী হওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিল। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্র পরিচালিত বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেয়া রেকর্ডকৃত এক সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কর্নেল মাহফুজুর রহমানের মাধ্যমে জিয়া আমাকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি যদি প্রস্তাবে রাজি না হই তাহলে একই সময়ে সে আমাকে ২৫ বছর জেলবন্দি রাখার হুমকি দিয়েছিল।’

    জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবের উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমি ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জে আয়োজিত আলোচনা সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করি। বক্তৃতায় আমি বলেছিলাম, হিটলার-মুসোলিনি থেকে শুরু করে কোনো স্বৈরাচারই টিকেনি, এদেশেও স্বৈরাচার টিকবে না।’


    এসময় তিনি জেলখানায় দুর্বিসহ কষ্টের ইঙ্গিত দেন।

    তৎকালীন ছাত্র নেতা ও তরুণ এমপি আবদুল হামিদ আরো বলেন, ‘এই অপরাধেই বোধহয় কিছুদিন পর আমি গ্রেফতার হই। জেলখানার ভেতরেই জিয়াউর রহমান তার সামরিক সচিব কর্নেল মাহফুজুর রহমানের মাধ্যমে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পাঠান। বলা হয়েছিল, প্রস্তাবটি না মানলে ২৫ বছর জেলে থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে পারিনি বলে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিই। জীবনভর বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে তার আদর্শ আঁকড়ে ধরেই থাকতে চেয়েছি।’


    রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকীতে আমি তার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমি শোকাহত চিত্তে আরো শ্রদ্ধা জানাচ্ছি বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তার তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ শহীদদের প্রতি, যারা ১৯৭৫ সালের এ দিনে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতকচক্রের হাতে শাহাদত বরণ করেছিলেন। ১৫ আগস্ট জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতা ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তারা শুরু করেছিল বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির পালা। ইতিহাসের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘাতকচক্র কুখ্যাত “ইনডেমনিটি আইন” পাশ করে।’


    আবদুল হামিদ বলেন, ‘১৫ আগস্ট বর্বরোচিত ঘটনা কেবল বাঙালির ইতিহাসের নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও বিরল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতাবিরোধী চক্র পরাজিত হলেও দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে তাদের চক্রান্ত কখনো থেমে থাকেনি। স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ঘাতকচক্রের চক্রান্তের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাকাণ্ড।’

    রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করেছেন। দেশের মানুষকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবেসে গেছেন। তিনি কখনো ভাবতেও পারেননি যে, কোনো বাঙালি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে বা তাকে হত্যা করতে পারে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি সব সময়ই সুযোগ খুঁজতে থাকে। এসময় ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটলেও বঙ্গবন্ধু কখনোই সেসব আমলে নিতেন না।’

    কওমীনিউজ/এম

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৮:১৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2020 qaominews.com all rights reserved