• রবিবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    জামিন পেয়েও চেন্নাইয়ের বন্দী শিবিরে আটক তাবলিগের বহু বিদেশি সদস্য

    আমিন মুনশি | ০১ জুলাই ২০২০ | ৪:১০ অপরাহ্ণ

    জামিন পেয়েও চেন্নাইয়ের বন্দী শিবিরে আটক তাবলিগের বহু বিদেশি সদস্য

    ছবি: সংগৃহীত

    দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলীগ জামাতের সমাবেশে যোগ দিতে আসা ১২৯ জন বিদেশী তাবলীগ সদস্যকে চেন্নাইয়ের একটি বন্দী শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। জামিন পাওয়া সত্ত্বেও আটক তাবলীগ সদস্যদের ছাড়া হয় নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিদেশী তবলীগ সদস্য আটক আছেন, কিন্তু চেন্নাইয়ের মতো বন্দী শিবিরে তাদের রাখা হয়নি কোথাও।

    চেন্নাইয়ের পুল্লাল কারাগারের ভেতরেই একটি ভবনকে বন্দী শিবির নাম দেওয়া হয়েছে। যেখানে ৯টি দেশের ১২৯ জন তাবলীগি জামাত সদস্য আটক আছেন। ১২৯জন বিদেশি তাবলীগ জামাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় তামিলনাডুর ১৫টি জায়গা থেকে মার্চ আর এপ্রিলের শুরুতে। এদের মধ্যে ১২ জন নারীও আছেন।


    তারপর থেকে দুটি কারাগারে রাখা হয়েছিল তাদের। কিন্তু এখন চেন্নাইয়ের পুল্লাল জেল চত্বরেই একটি ভবনকে ডিটেনশান সেন্টার বা বন্দী শিবির বানিয়ে সেখানে রাখা হয়েছে। ওই বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে সক্রিয় তামিলনাডুর এক রাজনৈতিক নেতা এম এইচ জাওয়াহিরউল্লা।

    বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন, “পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তামিলনাডু গণস্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী। বলা হয়েছে এরা রোগ ছড়াচ্ছিলেন। তাছাড়াও বিদেশী আইনের দুটি ধারা অনুযায়ী দাদের বিরুদ্ধে ভিসার নিয়ম ভঙ্গ করার অভিযোগও আনা হয়েছে।”


    “তামিলনাডুর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের সবাইকে চেন্নাইয়ের পুল্লাল জেলের শিশু-কিশোর বন্দীদের থাকার জন্য একটি ভবনে রাখা হয়।”

    “মাঝে একবার সবাইকে সইদাপেট জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন আবার পুল্লাল জেলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।”


    “আইন অনুযায়ী বিদেশী নাগরিকদের শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ৫টি বন্দীশালাতেই আটক রাখা যায়। যে কোনও জেলে তাদের রাখার নিয়ম নেই। এখন আবার তাদের চেন্নাই জেলের সেই শিশু-কিশোর বন্দীদের ভবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, কিন্তু জেলের ভেতরে হলেও বিশেষ আদেশ বলে সেটিকে বন্দী শিবির বা ডিটেনশান ক্যাম্প নাম দেওয়া হয়েছে। সেখানেও আইন ভাঙ্গা হয়েছে,” বলছিলেন মি. জাওয়াহিরউল্লা।

    ৮ জন নারী সহ ৯৮ জন তাবলীগ সদস্যকে জামিন দিয়েছে বিভিন্ন আদালত। জামিন পাওয়ার পরেও তাদের বন্দী শিবির থেকে ছাড়া হয়নি। আর বাকি ৩১ জন তাবলীগ সদস্যকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিল মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ। কিন্তু তাদেরও পুলাল জেলের আরেকটি ভবনে রাখা হয়েছে, যেটিকে বিশেষ নাম দিয়ে বন্দী শিবির বানানো হয়েছে।

    এম এইচ জাওয়াহিরউল্লা বলছিলেন, “একটি ভবনে বড়জোর ৩০ কি ৪০ জন থাকতে পারে। কিন্তু সেখানে ৯৮ জনকে রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নারীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করার কথা, সেটা মানা হয় নি।”

    “পানীয় জলের সমস্যা আছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের ঐ শিবিরে। জেলের অন্য বন্দীদের যে খাবার দেওয়া হয়, সেই একই খাবার তাবলীগ সদস্যদেরও দেওয়া হয়।”

    “বাকি যে ৩১ জন, তাদেরকে এই ভবনটিতে আর রাখা হয় নি– সেটা সম্ভব হত না। তাই অন্য একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিটা ব্যাপারেই তামিলনাডু সরকার আইন ভঙ্গ করেছে।”

    মি. জাওয়াহিরউল্লার কথায় সাড়ে তিন হাজার বিদেশী তাবলীগি সদস্য ভারতে এখন রয়েছেন। কিন্তু তামিলনাডু ছাড়া কোথাও তাদের বন্দী শিবিরে রাখা হয়নি। কোথাও মসজিদে, কোথাও হজ ভবনে থাকার ব্যবস্থা করেছে মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি।

    চেষ্টা করেও এ নিয়ে তামিলনাডু সরকারের কোনও প্রতিক্রিয়া জোগাড় করা যায়নি। বিদেশি তাবলীগ জামাতের সদস্যদের বিষয়টি এখন সুপ্রীম কোর্টে পৌঁছেছে। শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুলেছে ওই বিদেশি নাগরিকদের যদি কালো তালিকাভুক্ত করে ভিসা বাতিল করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তাদের কেন এখনও ভারতে রেখে দেওয়া হয়েছে? কেন তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হয় নি।

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৪:১০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০১ জুলাই ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2020 qaominews.com all rights reserved