প্রচ্ছদ ধর্ম-দর্শন

কোরবানির জরুরি মাসআলা

মুফতি আকতার | শুক্রবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 567 বার

কোরবানির জরুরি মাসআলা

কোরবানির পশুর বয়সসীমার মধ্যে উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয় কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে তা দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কোরবানি করা জায়েজ হবে না। (কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬)
একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কোরবানি দিতে পারবে। একাধিক ব্যক্তি মিলে কোরবানি করলে কারোরটা সহীহ হবে না। আর উট, গরু, মহিষ-এ সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারবে। সাতের অধিক শরিক হলে কারো কোরবানি সহীহ হবে না। (মুসলিম ১৩১৮, মুআত্তা মালেক ১/৩১৯, কাযীখান ৩/৩৪৯ , বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮)

উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কম যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েজ। (মুসলিম ১৩১৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭)

কোরবানির গরু, মহিষ ও উটে আকীকার শরিক হতে পারবে। (তাহতাবী আনাদ্দুর ৪/১৬৬, রুদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২)

এমন শুকনো, দুর্বল পশু যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নেই। (জামে তিরমিযী ১/২৭৫, আলমগীরী ৫/২৯৭, বাদায়েউস-সানায়ে ৪/২১৪)

যে পশুর লেজ বা কোনো কান এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি কাটা সে পশু কোরবানি জায়েজ নেই। তবে জন্মগতভাবেই যদি কোনো ছোট হয় তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। (জামে তিরমিযী ১/২৭৫, মুসলনাদে আহমদ ১/৬১০, ইলাউস-সুনান ১৭/২৩৮, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ৫/২৯৭-২৯৮)

কোরবানির পশু হারিয়ে যাওয়ার পর যদি আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া যায় তাহলে কোরবানিদাতা গরিব হলে (যার উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়) ধনি হলে তার উপর দুটি ই পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। আর গরিব হলে কোনো একটি কোরবানি করলেই হবে। তবে দুটি কোরবানি করাই উত্তম। (সুনানে বায়হাকী ৫/২৪৪, ইলাউস সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯, কাযীখান ৩/৩৪৭)

অনেক সময় জবাইকারীর জবাই সম্পন্ন হয় না, তখন কসাই বা অন্য কেউ জবাই সম্পন্ন করে থাকে। এক্ষেত্রে অবশ্যই উভয়কেই ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ পড়তে হবে। যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি না পড়ে তবে ওই কোরবানি সহীহ হবে না এবং জবাইকৃত পশুও হালাল হবে না। (রুদ্দুল মুহতার ৬/৩৩৪)

কোরবানির পশু কেনার পর বা নির্দিষ্ট করার পর তা দ্বারা উপকৃত হওয়া জায়েজ নেই। যেমন হালচাষ করা, আরোহণ করা, পশম কাটা ইত্যাদি। সুতরাং কোরবানির পশু দ্বারা এসব করা যাবে না। যদি করে তবে পশমের মূল্য হালচাষের মূল্য ইত্যাদি সদকা করে দিবে। (মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, নাইলুল আওতার ৩/১৭২, ইনাউস সুনান ১৭২৭৭, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০০)

কয়েকজনে মিলে কোরবানি করার ক্ষেত্রে জবাইয়ের আগে কোনো শরিকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানি করার অনুমতি দেয় তবে তা জায়েজ হবে। নতুবা ওই শরিকের টাকা ফেরত দিতে হবে। অবশ্য তার স্থলে অন্যকে শরিক করা যাবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬, কাযীখান ৩/৩৫১)

কোরবানির গোশত হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেয়া জায়েজ। (ইলাউস সুনান ১৭/২৮৩, আলমগীরী ৫/৩০০)

কোরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকিনকে, আর এক-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০)

জবাইকারী, কসাই বা কাজে সহযোগিতাকারীকে চামড়া, গোশত বা কোরবানির পশুর কোনো কিছুই পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া জায়েজ হবে না। (বুখারী ১/৩৩২, মুসলিম ২/৪২৩, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৮, কাযীখান ৩/৩৫৪)

qaominews.com/কওমীনিউজ/বি

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ