প্রচ্ছদ কলাম

কওমী স্বীকৃতি নিয়ে একটি মূল্যায়ন

মাওলানা কবির আহমদ আড়াইহাজারী | বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1676 বার

কওমী স্বীকৃতি নিয়ে একটি মূল্যায়ন

গত ১১ এপ্রিল ২০১৭ইং মঙ্গলবার বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসার ইতিহাসে একটি স্বরণীয় দিন। কারণ সেদিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার-এর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাষ্টার্স-এর সমমান ঘোষণা করেছেন। যদিও এই কাজটি ২৯ আগষ্ট ২০০৬ সনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও করে ছিলেন। ( যা ২০ ডিসেম্বর ২০০৬ বুধবার শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১৩/১০/২০০৮ তারিখে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরী কমিশন থেকে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।)

কিন্তু এ দুইয়ে মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ১১ এপ্রিল-১৭ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর আহবানে গণভবনে যেমন উপস্থিত ছিলেন শাপলা চত্বরের রক্তাক্ত ও মামলা মুকাদ্দমায় জর্জরিত উলামায়ে কেরাম ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাঙ্গাত্বক, বিদ্রুপাত্বক তেতুল হুজুরখ্যাত হেফাজতে ইসলাম প্রধান শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি, তেমনি উপস্থিত ছিলেন শাহাবাগী হুজুরখ্যাত সোলাখিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ সাহেবসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শতশত উলামা-মাশায়েখগণ, সকলের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতিতে এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কওমী সনদের স্বীকৃতি ঘোষণা করেন। এবং নজিরবিহীন নৈশভূজেরও ব্যবস্থা রাখা হয়। যা বর্তমান সরকার বিশেষকরে জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছা ও আন্তরিকতারই বহি:প্রকাশ বলে মনে করি। কিন্তু ২০০৬ সনে যে সকল উলামায়ে কেরামের আন্দোলন সংগ্রামের ফসল হিসেবে বিশেষকরে চারদলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হাক রহ.-এর ত্যাগ-তিতীক্ষায় যে চারদলীয় জোটের দুই দলীয় সরকার ক্ষমতায় এসেছিল তারা উলামায়ে কেরামের এই আন্দোলন সংগ্রামের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন। যখন শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল রহ. হাজার হাজার উলামায়ে কেরামকে নিয়ে কওমী সনদ স্বীকৃতির দাবিতে মুক্তাঙ্গনে দিনের পর দিন খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছিলেন তখন সরকার বা সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার তিনশত আলেমতো দূরের কথা শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হাক, মুফতী ফজলুল হক আমিনী ও মাওলানা ফজুলল করিম পীর সাহেব চরমনইসহ দেশের শীর্ষ ত্রিশজন আলেমকে ডেকেও কোন আলোচনার সৎইচ্ছা জাগেনি। এমনকি একজন মন্ত্রী বা নেতাও এসে মুক্তাঙ্গনে অবস্থানরত উলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাত বা সম্মতি প্রকাশ করার বোধ উদয় ঘটেনি।

প্রধানমন্ত্রী কি করলেন! ক্ষমতা ছাড়ার পূর্ব মুহুর্তে রাতের আধারে সংগোপনে কওমী সনদ স্বীকৃতির ফাইলে স্বাক্ষর করে দিলেন। যেমনিভাবে সাকরাতুল মাউত (মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে) অবস্থায় ঈমান আনলে ঈমান কবুল হয় না, দান করলে দান কবুল হয় না, তেমনিভাবে বি.এন.পি সরকারের দেয়া কওমী সনদের স্বীকৃতিও তাই কবুল হয়নি।

আমার জানামতে ১১ এপ্রিল ২০১৭ মঙ্গলবার গণভবনে দেশের প্রতিনিধীত্বশীল কওমী উলামায়ে কেরামগণ সকলেই উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তিতে কয়েকদিন অতিবাহিত হয়েগেলেও উল্লেখযোগ্য কোন আলেম সরকার কর্তৃক ঘোষিত কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে কোন প্রতিবাদ করেননি। তাই আমি মনে করি এই বিষয়ে সবাই এখন একমত হয়েছেন। অতএব, এর থেকে পিছপা হওয়া বা দূরে থাকার আর কোন সুযোগ নাই।

আমি মনে করি সরকার তার দায়িত্বটুকু যথাযথভাবে এবং সুচারুরূপে আঞ্জাম দিয়েছেন। এখন দায়িত্বপ্রাপ্ত উলামায়ে কেরামের কর্তব্য হবে দ্রুত সনদ স্বীকৃতি বাস্তবায়নের পথ ও পদ্ধতি পরিস্কারভাবে জাতির সামনে তুলে ধরা। এবং সকল প্রকার সঙ্কীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে ও উলামা-মাশায়েখদেগণের উম্মুক্ত মতামতের আলোকে একটি গ্রহণযোগ্য সিলেবাস ও কর্মপদ্ধতি তৈরী করা। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার কারণে যদি কওম ও মিল্লাতের কোন ক্ষতি হয় তাহলে তাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে এর চরম মূল্য দিতে হবে। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার তৈফিক দান করুন। আমিন।

qaominews.com/কওমীনিউজ/এএন

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ