প্রচ্ছদ সাক্ষাৎকার, স্লাইডার

কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি:  এখনো অনেক কাজ বাকী

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন | বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৭ | পড়া হয়েছে 3252 বার

কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি:  এখনো অনেক কাজ বাকী

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ও দাওরায়ে হাদীসের এম.এ’র মান দাবি করে ছাপানো লিফলেট

গণভবনে দেশের শীর্ষ ৩০০ আলেমের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমী মাদরাসা শিক্ষা সনদ স্বীকৃতি ঘোষণা এখন টক অবদা কান্ট্রি। এ নিয়ে নানাজন নানা মতামত দিচ্ছেন। কেউ আশান্বিত আবার কেউবা শঙ্কিত।

কওমী স্বীকৃতির বিষয়টি  মূলত ১৯৬২ ও ১৯৭১ সনের জুন মাসে শাইখুল ইসলাম আল্লামা আতহার আলী রহ. উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের ব্যানারে ১৯৮৪ সনে এই আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে। দাওরায়ে হাদীসকে এম.এ’র মান দেয়ার আন্দোলন শুরু হয়। যে আন্দোলনে শেষ পর্যন্ত ২০০১ সনের পরে শাইখুল হাদীস মাওলানা আজিজুল হক, মুফতি ফজলুল হক আমিনী, মাওলানা ফজুলল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ও মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী অংশগ্রহণ করেন।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে দাওরায়ে হাদীসকে এম.এ’র মান দেয়ার দাবী উত্তাপনকারী তখনকার ছাত্রনেতা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক লেখক ও সম্পাদক  ড. আ ফম খালিদ হোসেন’র সাথে কওমীনিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে তিনি  এবিষয়ে যা জানান, তা পাঠকদের জন্য হুবহু তোলে ধরা হলো।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডসমূহের অধীন দাওরায়ে হাদীস সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবী মাস্টার্স ডিগ্রীর সমমান প্রদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন গত ১১ এপ্রিল’১৭। কওমী মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি করে এই সমমান প্রদান করা হলো বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

ব্যক্তিগতভাবে এ ঘোষণায় আমি বেশ আনন্দিত। অবশেষে দীর্ঘ প্রত্যাশা পূর্ণ হতে চলল। এর পেছনে কারণ আছে, স্মৃতি আছে। আমি ১৯৮৪ সালে আমার কতিপয় মুখলিস সতীর্থদের নিয়ে দাওরায়ে হাদীস সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবী মাস্টার্স ডিগ্রীর সমমান প্রদানের দাবীতে আন্দোলন করি এবং ৪পৃষ্ঠার একটি লিফলেট বের করি। এর আগে এমন দাবী কেউ করেছেন বলে আমার জানা নেই। বন্ধুরা হলেন মাওলানা আবদুল খালেক নিজামী, মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন, মাওলানা নূরুল কবির হিলালী, আবদুল আলিম আরো অনেকে।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন কওমী মাদরাসায় যখন লিফলেট বিলি করতে যাই তখন অনেকে বিস্মিত হয়ে জানতে চান, এটা কী করে সম্ভব। আজ সেটা সম্ভব হতে যাচ্ছে। আরো ভাল লাগছে কওমী উলামায়ে কেরাম একটি বিষয় নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছেন। এটা ইতিবাচক লক্ষণ। এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব।

স্বীকৃতির ঘোষণায় অতি উচ্ছ্বসিত না হওয়া ভাল। কারণ এখনো অনেক কাজ ও ধাপ বাকী। প্রতিটি ধাপে বাধা আসবে, চক্রান্ত হবে। আমলাতান্ত্রিক লালফিতার দৌরাত্ম থাকবে। এর পর খুঁটিনাটি বিষয় ও ধারা-উপধারা নিয়ে খসড়া বিল তৈরী হবে, মন্ত্রী পরিষদে পর্যালোচনা হবে, সংসদীয় কমিটির কাছে যাবে এর পর সংসদে পাশ হলে অাইনে পরিণত হবে। তখন আইন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এক সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এরকম ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রজ্ঞাপনও জারী হয়, কাজের কাজ কিছু হয়নি। মূলা ঝুলে রইল।

তিনি আরো বলেন, রাজনীতির চেহারা ও স্বরূপ সব সময় অপরিবর্তনীয়। আসলে রাজনীতিকদের তেলেসমাতির অভাব থাকে না। তাঁদের প্রতিটি কাজের ভেতরে থাকে ভোট ও ক্ষমতায় আরোহণের উগ্র বাসনা। Tactics এর অপর নাম যে Politics এ কথা যেন আমরা ভুলে না যাই। ম্যাকিয়াভিলিয়ান রাজনীতির এটাই চরিত্র ও বৈশিষ্ঠ্য। ‘ঠিক সময়ে’ কাজ আদায় করে নেয়ার যোগ্যতা থাকলে অসম্ভব বলে কোন কথা থাকে না। কথায় বলে না ‘সময়ের এক ফোঁড় অসময়ে দশ ফোঁড়’। স্বীকৃতি গ্রহণকারী নেতৃবৃন্দকে এ ব্যাপারে কৌশলী হওয়া দরকার। ইংরেজ কবি শেক্সপিয়ারের ভাষায় বলি Hope for the best prepare for the worst অধিকতর ভাল ও কল্যাণের প্রত্যাশায় থাক এবং ক্ষতি ও সর্বনাশের জন্য প্রস্তুত থাক।

নব প্রতিষ্ঠিত আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সমমান দেয়ার কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২বার উচ্চারণ করেন। অামি মনে করি এটা তাৎপর্যপূর্ণ। পৃথিবীর কোথাও কোন বোর্ড মাস্টার্স এর সনদ দেয় না। এটার রেওয়াজ নেই। আরবী বিশ্ববিদ্যালয়কে Affiliating Authority হিসেবে মেনে নিতে কোন অসুবিধে নেই। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ণ, ফলাফল ঘোষণা সব বোর্ডসমূহ করবে। কেবল সনদ ইস্যু করবে আরবী বিশ্ববিদ্যালয়। এ রকম নিয়ম ও রেওয়াজ আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

qaominews.com/কওমীনিউজ/এএন

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ