প্রচ্ছদ রাজনীতি, স্লাইডার

ইসলামী ঐক্যের চেতনা সময়ের দাবি: মাওলানা নেজামী

স্টাফ রিপোর্টার | রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 397 বার

ইসলামী ঐক্যের চেতনা সময়ের দাবি: মাওলানা নেজামী

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব পরিহার করে ইসলামী ঐক্যের চেতনাকে শাণিত করার প্রয়াস চালানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করে বলেছেন যে, ইসলামপন্থীদের অনৈক্যের সুযোগে ইসলাম বিরোধীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। তিনি ইসলামবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার জন্যে সকল ইসলামী দল, সংগঠন ও ব্যক্তিত্বের প্রতি আহ্বান জানান।

রবিবার (২২ অক্টোবর-১৭) আইওজে চেয়ারম্যান বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ মাওলানা আতহার আলী রহ. মিলনায়তনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির এক সভায়  সহসভাপতি অধ্যাপক এহতেশাম সারোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী এসব কথা বলেন।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন, সহকারী মহাসচিব আলহাজ্জ ওবায়দুল হক, সাংগঠন সচিব মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, অর্থ সম্পাদক মুফতি আবদুল কাইয়ূম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মমিনুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক পীরজাদা সৈয়দ মোঃ আহসান প্রমূখ।

মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে এখন ইসলামী দল, সংগঠন ও জনতার মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্যের প্রয়োজন। কারণ মুসলিম জনগণের স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধ, আদর্শ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, তাহযিব-তমদ্দুন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্যে হেন অপপ্রয়াস নেই, যা করা হচ্ছে না। মুসলিম জীবন ব্যবস্থা নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত আলেম ও মাদরাসাকে আঘাত করে সংঘাত সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। নানা উদ্ভট চিন্তা-চেতনার আবর্তে তাড়িত এক শ্রেণীর লোক ও মিডিয়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইসলামের বিরোধিতায় ক্রিয়াশীল বৃহৎ শক্তির তল্পিবাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ।
তিনি বলেন, ইসলামী অনুশাসনের অনুশীলনই মানুষের নৈতিক উৎকর্ষতা সৃস্টি ও সুজনশীল প্রতিভার উন্মেষ ঘটায়। মানুষকে স্বশিক্ষিত ও মার্জিত করে তোলে। মানুষের চেতনাকে শাণিত. কর্তব্যবোধে উজ্জীবিত, দীপ্ত পথে বলিয়ান ও উদ্দিপ্ত করে । জনগণের চিন্তা-ভাবনার জগতে বিরাজমান নৈরাজ্যের উন্নতি ঘটাতে সহায়তা করে। উন্নত মানবিক জীবন ও সমাজের মনোভূমিতে শৃংখলা আনতে সহায়ক ভ’মিকা পালন করে। তিনি বলেন ইসলাম মানুষের অন্তরে পারস্পরিক ভালবাসা, সাম্য ও মৈত্রীর অনুভূতি স্বতঃস্ফুর্তভাবেই জাগ্রত করে। মানুষের মনে ন্যায়বোধ, কর্তব্যপরায়নতা, শৃংখলা, শিষ্টাচারবোধ, মানবাধিকার, পারস্পরিক সৌহার্দ্যবোধ, অধ্যবসায় ইত্যাদি নৈতিক ও আত্মিক গুণাবলী অর্জনে সহায়তা করে। মানুষকে কুসংস্কারমুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করে ।

তিনি বলেন, ইসলামী শিক্ষা জনমনে সন্ত্রাস বিরোধী চেতনা সঞ্জীবিত করার প্রেরণা যোগায়। ইসলাম বিরোধী যেকোন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সংগ্রামী চেতনাকে সঞ্জীবিত করা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, মসজিদসহ ইসলামী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কোনো প্রকার ব্যাঙ্গাত্মক, অরুচিকর ও অবমাননাকর উক্তি বরদাশত করা হবেনা। প্রয়োজনে এদেশের সকল ইসলামী দল, সংগঠন ও তৌহিদী জনতা যেকোন সময় ঐক্যবদ্ধ হতে পারে । তৌহিদী জনতা ইসলামের পতাকাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে আপসহীন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। ইসলামের নিশান-বরদার ইসলামী, দল, সংগঠন ও তৌহিদী জনতা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও যে সংগ্রামের প্রতি বিশ্বস্ত ও অবিচল, তাও এর মাধ্যমে প্রমাণীত হয়েছে।

qaominews.com/কওমীনিউজ/বি/এইচ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ