প্রচ্ছদ মনীষী জীবন

ইসলামী রাজনীতির দুই মহাপুরুষকে নিয়ে কিছু কথা…

সামছ্ আল ইসলাম | বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 10247 বার

ইসলামী রাজনীতির দুই মহাপুরুষকে নিয়ে কিছু কথা…

সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করিম ও মুফতি ফজলুল হক আমিনী

এদেশের ইসলামী রাজনীতির দুই মহাপুরুষকে নিয়ে আমার একান্ত কিছু কথা। একজন সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করিম অপরজন মুফতি ফজলুল হক আমিনী। পূর্বকথা হলো, আমি চরমোনাই পীরকে যতটুকু ভালবাসি ঠিক ততটুকুই ভালবাসি মুফতি আমিনীকে।

যেহেতু আমার বাড়ি মুফতি আমিনীর ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে সেহেতু তাকে ভালবাসাটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। ২০১০ সালে কাজীপাড়া সৈয়দা সৈয়দাতুন্নেছা মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে জিহাদের বায়াত হয়ে সর্বপ্রথম নাম-ঠিকানা দিয়েছিলাম। নারী নীতিমালাবিরোধী আন্দোলনে একজন সক্রিয়কর্মী হিসেবে কাজ করেছি।

৪ এপ্রিলের হরতালে গাটুরা গ্যাসফিল্ড মোড়ে অবস্থান করেছি। সর্বশেষ মুফতি আমিনী মুক্তি পরিষদ দারুল আরকাম শাখার সদস্য ছিলাম। তেমনিভাবে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ব্রাক্ষণবাদিয়া জেলা শাখার যুগ্মসম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম। সাংগঠনিক স্তর ছিল কর্মী। বর্তমানে ইশার সঙ্গেই আছি। মুফতি আমিনীর সংস্পর্শ পাবার সুযোগ হলেও চরমোনাই পীরকে দেখারও সুযোগ হয়নি কখনো। তাকে না দেখেও আমি তার একজন ফ্যান। দুজন ফজলুলের একজন শুধু নেতৃত্বই দিয়েছেন অন্যজন নেতৃত্বদানের পাশাপাশি নেতৃত্ব তৈরিকরণেরও চেষ্টা চালিয়েছেন।

আমিনী সাহেব একের পর এক আন্দোলন সংগ্রাম নিজ নেতৃত্বে করেছে ধারাবাহিক ইস্যু নিয়ে। আর চরমোনাই পীর সাহেব সংগঠনের মাধ্যমে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন সবসময়। এজন্য তার সংগঠন থেকে বহু গুণী সংগঠকদের জন্ম হয়েছে।

এ কারণেই আমিনী রহ.-এর সংগঠন থেকে যে পরিমাণ দক্ষ কর্মী তৈরি হয়েছে তার কয়েকগুণ বেশি কর্মী চরমোনাই পীর রহ.-এর সংগঠন ঢাকাতে তৈরি করেছেন।

আমার উস্তাদ মাওলানা মাজহারুল হক কাসেমী বলেন, আমি একদিন মুফতি আমিনীকে বললাম, হুজুর আমরা কি আমাদের লোকজনকে সদস্য করে তারবিয়ত দিয়ে কর্মী বানিয়ে জামাতের মত শক্তিশালী সংগঠন করতে পারি না? তখন তিনি বললেন কি দরকার এসবের? আমাদের আকাবিররা কি এমন করেছেন? আমরাও তাদের মত দ্বীনের প্রয়োজনে দরস ছেড়ে ময়দানে আসবো, আন্দোলন-সংগ্রাম করবো, আবার এসে দরস-তাদরিসে লেগে যাবো। অন্যদিকে চরমোনাই পীর রহ. সারা জীবন শুধু সংগঠনই করেছেন।

রাজনীতির জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ছাত্রজনতার জন্য ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির জন্য ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, আইনজীবীদের নিয়ে ইসলামী আইনজীবী পরিষদ, আত্মশুদ্ধির ও তাবলীগের জন্য বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি, কোরআনী শিক্ষার বিস্তারের জন্য বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষাবোর্ডসহ অসংখ্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক তিনি।

মুফতি আমিনীর জীবদ্দশাই পীর সাহেবের সংগঠনগুলো তার সংগঠনের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় ছিল। আজ তাদের কেউই জীবিত নেই। আছে তাদের সংগঠনগুলো। আমিনী রহ. সংগঠন যেখানে ভাঙতে ভাঙতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছে, সেখানে চরমোনাই পীরের সংগঠন অতিতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী। এর শিকড় পৌঁছে গেছে এদেশের গভীরে গণমানুষের অন্তরে। ব্যক্তির শেষ আছে কিন্তু সংগঠনের শেষ নেই।

qaominews.com/কওমীনিউজ/শুভ/এম

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ