• শুক্রবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    ইসরায়েলে ইহুদিদের ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে

    অনলাইন ডেস্ক | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

    ইসরায়েলে ইহুদিদের ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে

    ইসরায়েলে ইহুদিদের ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে

    ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে কয়েক যুগ ধরে চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও বিপর্যয়। এমন পরিবেশে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে আন্তবিবাহের প্রতিবাদ করে আসছে মূলধারার ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা। কারণ আরবদের সঙ্গে সম্পর্ক করে বেশির ভাগ ইহুদি ইসলামের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। ফলে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে আন্তবিবাহের বিরোধিতায় তৈরি হয়েছে বহু ইসরায়েলি সংগঠন। ইহুদি ও অইহুদিদের মধ্যে যারা আরব পুরুষদের বিয়ে করে ইসলাম গ্রহণ করে, এমন নারীদের পুনরায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা প্রদান করে লেহাভা (খবযধাধ) নামের সংগঠনটি। সংগঠনটি ইহুদি জাতিকে সুরক্ষিত রাখার কাজ করছে। অবশ্য অনেকে ইহুদি সংগঠনটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার অভিযোগ তুলেছে।

    ২০০৭ সালে ইহুদি ধর্মাবলম্বী তরুণ নোয় শিটরিত (ঘড়ু ঝযরঃত্রঃ) ইসলাম গ্রহণ করলে ইসরায়েলে বেশ তোলপাড় শুরু হয়েছিল। কিন্তু সংগঠক আনাত পোপেস্টাইনের স্বামীর ভূমিকায় নোয় ওই সম্পর্ক থেকে ফিরে আসেন। ২০০৫ সালে আনাত পোপস্টাইন নিজের স্বামীর সঙ্গে মিলে লেভাকা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কাছে প্রতিদিন অনেকে সাহায্য চেয়ে আবেদন করে বলে তিনি দাবি করেন। বহু নওমুসলিম নারী নিজ ধর্মে ফেরার সমাধান চেয়েছেন বলে জানান তিনি। অনেকে পরিবার ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে আপত্তিকর সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া সংগঠনটি নানা জটিলতায় আক্রান্ত দুর্বল নারীদের সহায়তা করে সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে।


    পোপস্টাইন বলেন, ইসরায়েলে ইসলাম গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা কঠিন হবে। তবে আমরা জানি যে ইহুদি থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর বাস্তব কারণ হলো, নারীরা মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করে। পরবর্তী সময়ে মুসলিম পুরুষরা ইহুদি নারীদের তাঁদের ধর্মে নিয়ে যায়। ইহুদি ধর্মানুসারে মিশ্র পরিবারের শিশুরা মায়ের কাছ থেকে ইহুদি ধর্মের উত্তরাধিকার লাভ করে। গোপস্টাইনের বর্ণনামতে, এখানেই বিষয়টি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করে। কারণ শিশুরা আরব পিতার সঙ্গে থেকে যান। পরবর্তী সময়ে বড় হয়ে তারা আরবদের বিয়ে করে। এর মাধ্যমে তারা ইহুদি ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

    ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের ইসলাম গ্রহণের বর্তমান পরিসংখ্যান সুনিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও তা ক্রমাগত বাড়ছে। উদাহরণত, ২০০৩ সালে সরকারি পরিসংখ্যান মতে, মাত্র ৪০ জন ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ২০০৬ সালের প্রতিবেদনে ৭০ জন অর্থাৎ ইহুদি ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণের সংখ্যা গত তিন বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এরপর থেকে ধর্মান্তরের হার ক্রমাগত বাড়ছে। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে সরকারি হিসাবে ২৫০ জন ইহুদি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের বেশির ভাগই নারী। ২০০৮ সালে ইহুদি সাংবাদিক মেহেদি মাজেদ ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ইসরায়েলকে একটি ইহুদিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অথচ এর আগে তিনি ইসরায়েলকে এ অঞ্চলের গণতন্ত্রের বাতিঘর বলেছিলেন।


    বস্তুত আরব পুরুষদের সঙ্গে বিয়েতে আবদ্ধ ইসরায়েলের ইহুদি নারীদের নিজ ধর্মে ফেরাতে লেহাভা সংগঠনটি নানাভাবে কাজ করছে। আনুমানিক হাজার খানেক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে নানাভাবে সেবা দিচ্ছে সংগঠনটি। আনাত বলেন, ‘আমরা ইহুদি নারীদের সঙ্গে কথা বলে কিংবা কোনো সমাধান প্রদান করে সহায়তা করি। অনেক সময় তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য ফ্ল্যাটের প্রয়োজন হয়, তখন আমরা তার ব্যবস্থা করি। অনেক সময় তাদের মানসিক সহায়তার প্রয়োজন হয়। এদিক থেকেও আমরা তাদের সহায়তার চেষ্টা করি। আমাদের কার্যক্রম বর্ণবাদী হিসেবে মনে হলেও কিন্তু ইহুদি ধর্মে সুরক্ষায় এ ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই।’

    সূত্র : স্পুটনিক নিউজ।


    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮ 
    advertisement

    Editor : A K M Ashraful Hoque

    51.51/A,, Resourceful Paltal City, Purana Paltan, Dhaka-1000
    E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2021 qaominews.com all rights reserved