প্রচ্ছদ রাজনীতি, স্লাইডার

আসাম থেকে ৫০ লাখ মুসলমান বিতাড়ন পরিকল্পনা প্রতিরোধ করতে হবে।

স্টাফ রিপোর্টার | বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 523 বার

আসাম থেকে ৫০ লাখ মুসলমান বিতাড়ন পরিকল্পনা প্রতিরোধ করতে হবে।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ নেজামী ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম থেকে ৫০ লাখ মুসলমানকে বিতাড়নের ভারতের বিজেপি সরকারের পারিকল্পনার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ভারতের এই ক্রিয়ার বিরুদ্ধে সমান বিপরীত প্রতিক্রয়া অনিবার্য হয়ে উঠবে। তাছাড়া খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত বাংলাদেবশের বিরাট ভূখন্ড ভারতকে দিয়ে দেয়ার জন্যে বিজেপি নেতা সুব্রামনিয়ামের দাবির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে বলেন যে, কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী যখন দিল্লীর আধিপত্য ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির শৃংখলমুক্ত হওয়ার আকাংখায় জেগে উঠেছে, সেই মহুূর্তে বিজেপি সরকারের আসাম থেকে মুসলিম বিতাড়ন এবং সুব্রামনিয়ামের এই ধরনের বক্তব্য কাঁচের ঘরে বাস করে অন্যের দিকে ঢিল ছোড়ার সামিল।

মুসলমানদের অনুপ্রবেশের মিথ্যা অজুহাতে আসাম থেকে মুসলিম বিতাড়ন ও বাংলাদেশের ভূখন্ড ভারতকে দেয়ার দাবিকে ধৃষ্ঠতামূলক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন যে, বরং ভারত বিভক্তির সময় মুর্শীদাবাদ ও করিমগঞ্জসহ যেসব অঞ্চল তদানিন্তন পাকিস্তান ও আজকের বাংলাদেশের অংশ ছিল, সেসব অঞ্চল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

বুধবার (২২ নভেম্বর-১৭) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ নেজামী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, চরম হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সেরকার ও সুব্রামনিয়াম এই ধরনের পররাজ্য গ্রাসের মতো উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে হিন্দুদের ভোট পাওয়ার কূট কৌশলে প্রবৃত্ত হয়েছে। তাছাড়া যখনই ভারতে রাজনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করে, তখনই দিল্লীর ব্রাহ্মণ্যবাদী সরকার অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যে প্রতিবেশিদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে সংকটের বহ্নিশিখা চাই চাপা দেয়ার অপচেস্টা চালায়।

বিবৃতিতে বলা হয় যে, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের দেশসমূহ ভৌগলিকভাবে নিকটতম ভারতের সাথে বন্ধুত্ব, মৈত্রী এবং সহযোগিতা সুদৃঢ় ও চিরস্থায়ীকরনের নীতিতে বিশ্বাসী হলেও ভারত আয়তনের বিশালত্ব ও গায়ের জোরে জাতিসংঘ সনদ ও পারস্পরিক সহাবস্থানের নীতি বিসর্জন দিয়ে প্রতিবেশিদের সাথে বৈরী আচরণ অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেশিদের ওপর ভারতের আগ্রাসী থাবা আজ অত্যন্ত প্রকট। প্রতিবেশিদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে পদানত করার লক্ষ্যে ক্রুর প্রয়াস চালানো হচ্ছে। গত ছয় দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে একটি দিনও সৎপ্রতিবেশিসূলভ সম্পর্ক সৃষ্টির আবহ রচনার সুযোগ দেয়া হয়নি। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশি দেশে ভারতের সন্ত্রাসী তৎপরতা পরিচালানোর কথা সবার জানা। ভারত গোয়েন্দা সংস্থা র-এর মাধ্যমে এসব দেশের অভ্যন্তরে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে অাভিন্ন ভারত প্রতিষ্ঠার আবহ তৈরি করে চলেছে।

qaominews.com/কওমীনিউজ/বি/এইচ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ