• শুক্রবার ১০ই জুলাই, ২০২০ ইং ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    ‘আমার স্ত্রী সবসময় চাইতেন কোনো মহামারিতে যেন তার মৃত্যু হয়’

    আমিন মুনশি | ২৯ জুন ২০২০ | ৯:০৮ অপরাহ্ণ

    ‘আমার স্ত্রী সবসময় চাইতেন কোনো মহামারিতে যেন তার মৃত্যু হয়’

    ছবি: সংগৃহীত

    জানাযা নামাজে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু লিলি সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। নামাজ শুরুর আগে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী সবসময় চাইতেন কোনো মহামারিতে যেন তার মৃত্যু হয়। তিনি ছিলেন সৎ, ধর্মপরায়ণ এবং দায়িত্বশীল। সংসার ও আমার রাজনৈতিক জীবনে প্রতিষ্ঠার পেছনে তার অবদান অনেক’ এ কথা বলেই অঝোরে কাঁদেন মন্ত্রী।

    নিজেকে সামলে নিয়ে মন্ত্রী বলেন, একজন স্ত্রী ভালো না খারাপ, তা কেবল স্বামীই ভালো বলতে পারেন। শিশু বয়সে মহামারি কলেরায় আমি মাকে হারিয়েছি। আমার স্ত্রী সবসময় চাইতেন কোনো মহামারিতে যেন তার মৃত্যু হয়। তাহলে শহীদের মর্যাদা পাবেন। তার ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে। মহামারিতেই তাঁর মৃত্যু হলো। নিশ্চয়ই তিনি শহীদের মর্যাদা লাভ করবেন’।

    আজ সোমবার যোহরের নামাজের পর গাজীপুর শহরের জয়দেবপুর দারুস সালাম গোবরস্থান জামে মসজিদ মাঠে মন্ত্রীর স্ত্রীর জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মন্ত্রীর একমাত্র ছেলে এটি এম মাজহারুল হক তুষার। নামাজ শুরুর আগে বক্তব্যে স্ত্রীর জন্য দোয়া চান মন্ত্রী মোজাম্মেল হক।

    জানাযায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমতউল্লা খান, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলিম উদ্দীন বুদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এ অংশ নেন। পরে লায়লা আরজুমান্দ বানু লিলিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান গোরস্থানে দাফন করা হয়।

    নমুনা পরীক্ষায় মন্ত্রী ও তার স্ত্রীর গত ১২ জুন কভিড-১৯ পরীক্ষার পজিটিভ ফল আসে। পর দিন তাদের ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২১ জুন দ্বিতীয়বার তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ওই পরীক্ষায় মন্ত্রীর নেগেটিভ আসলেও করোনা পজিটিভ আসে স্ত্রীর। সুস্থ হয়ে মন্ত্রী বাসায় ফিরে আসলেও স্ত্রীর অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে। সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    লায়লা আরজুমান্দ বানু গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী জয়দেবপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। ১৯৪৯ সালের ৬ জানুয়ারি গাজীপুরের এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরবিারে জম্মগ্রহণ করনে। তার বাবা শেখ মোবারক জান এবং মা লাল বানু। তিনি ১৯৭৩ সালে মুক্তযিুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মল হকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি স্বামী, ২ মেয়ে, এক ছেলে এবং নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৯:০৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৯ জুন ২০২০

    qaominews.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
    advertisement

    প্রকাশক ও সম্পাদক : এ কে এম আশরাফুল হক

    ৬০/ই/১, দেওয়ান কমপ্লেক্স (৫ম তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
    ফোন : ০১৯১১-৮২৪৬১৮, | E-mail : qaominews@gmail.com

    ©- 2020 qaominews.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।