প্রচ্ছদ ধর্ম-দর্শন

শরীয়তের চশমায় আল্লামা আহমদ শফীর সাথে শেখ হাসিনার পর্দা

মাও. মাহমুদ হাসান সিরাজী | রবিবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৭ | পড়া হয়েছে 14442 বার

শরীয়তের চশমায় আল্লামা আহমদ শফীর সাথে শেখ হাসিনার পর্দা

প্রশ্নটা আমাদের অনেকের মাঝেই ছিল। প্রথমে আমাদেরও কেউ কেউ এমন আপক্তি তুলে ছিলেন। আর এটা নতুন কোনো ইস্যু না। আমাদের নিকট অতীতে শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ও মুফতী আমিনী রহ. এর ব‍্যাপারেও এমন প্রশ্ন উত্তাপিত হয়েছিল। ঐ প্রশ্ন এখনো আছে। বিশেষ করে জোট রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট এমন সবাই এ প্রশ্নে জর্জরিত।

সম্প্রতি কওমী সনদের স্বীকৃতি ইস্যুতে আল্লামা আহমাদ শফী দা. বা. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসাতে বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আল্লামা আহমাদ শফী দা. বা. এর পাশে বসাতে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। গত ১১ তারিখের পর থেকে রাম বাম তথাকথিত উদারডান পন্থি থেকে শুরু করে শিয়া সুন্নী নামে খ্যাত সকলের মুখেই একমুখী সমালোচনার ঢেউ বাধ ভাঙ্গা জোয়ারের পানির মত উপচে পড়ছে। তাদের সমালোচনায় বুঝা যাচ্ছে যে, ৯৭/৯৮ বছরের শায়েখে ফানী, নিরলস দীনের এক সিপাহসালার দ্বারাই যেন ধর্মীয় পর্দা প্রথা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এক দীন বিজেতার হাতেই যেন দীনের পরাজয় ঘটলো।

আসলে বিষয়টি নিয়ে প্রথমে আলোচনায় আসতে চাচ্ছিলাম না। এ নিয়ে আলোচনায় আসা মানি অহেতুক সময় নষ্ট মনে করে ছিলাম। কেননা ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে কোনো ভাবেই শরয়ী পর্দা লঙ্গিত হয় নি। ধর্মীয় পর্দা প্রথার কোনো রকম ব্যাত্যয় ঘঠেনি। আর এটি যার নূন্যতম দীনি শিক্ষা রয়েছে সেও জানার কথা। কিন্তু অনেক লেবাসধারীকেও দেখলাম এ নিয়ে পানি ঘোলা করতে। অনেক সুরতধারীকেও দেখলাম এ মাসআলায় তার সীরাত নষ্ট করতে।
ফলে বাধ্য হয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা পোষণ করলাম।

এখানে আসল মাসআলা যা তাহাই উল্লেখ করার চেস্টা করছি। সকল প্রকার বাড়াবাড়ি থেকে নিজেকে সংযত রাখার প্রয়াস চালিয়েছি। যে সব কারণে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আল্লামা শফী দা. বা. এর পর্দা লঙ্গন হয় নি:-

১/বয়সের কারনে উভয়ের উপরই পর্দা শীথিল। কেননা কোনো মহিলা বার্ধক্যে উপনিত হলে তার জন্য পর্দা শিথিল হয়ে যায়। কেননা যে কারনে পর্দা করতে হয় সেটি তার ‍মাঝে তেমন আর পাওয়া যায় না। ফলে পর্দার মাসআলাটি তার পক্ষে অনেক শীথিল হয়ে যায়। তারিখের সকল প্রসিদ্ধ কিতাবেই রয়েছে যে, এ সব মহিলার সাথে মুসলমানদের প্রথম খলীফা হজরত আবু বকর ছিদ্দীক রা: হাতও মিলিয়েছেন।

আর আমাদের প্রধানমন্ত্রীতো আরো দুইব দশক আগেই সে বয়সে পৌছে গেছেন। তাছাড়া আল্লামা আহমাদ শফী দা. বা. ও শায়েখে ফানীতে উপনিত হয়েছেন।আর শায়েখে ফানীর হুকুমও কারো নিকট অস্পষ্ট নয়।
সুতরাং বয়সের দিকটি বিবেচনা করে শরীয়তের চশমায় দেখলে কারোরই পর্দা লঙ্গন হয়নি।

২/ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুধু চেহারাটাই খোলা ছিল। বাকি আওরাতে গালীজা ও আওরাতে খফীফা সবই পর্দার ভিতর ঢাকা ছিল। আর চেহারার বিষয়টি মুখতালাফ ফিহ মাসআলা। মুত্তাফাক আলাইহি মাসআলা নয়।

সুতরাং মুখতালাফ ফিহ একটা মাসআলা নিয়ে কারোর বিরুদ্ধে এতটা সমালোচনা করা যায় না।

৩ / আল্লামা আহমাদ শফী দা. বা. এখন আর শুধু কওমী অঙ্গনেরই মুরুব্বী নন, বরং তিনি দেশেরও একজন চৌকশ ও দূরদর্শী মুরুব্বী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও পিতৃতুল্য মুরুব্বী।
দেশ ও জনগনের বৃহৎ সার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার পিতৃসম মুরুব্বীর সাথে পরামর্শে বসতেই পারেন। আর ঐ পরামর্শ সভায় তার চেহারা খোকা থাকাটা দূষণীয়ও কিছু নয়। কেননা যেখানে কোনো মহিলা সাক্ষীর জায়গায় সর্বসম্মতভাবে চেহারা খোলা রেখে সাক্ষ দিতে পারেন সেখানে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানতো আরো অনেক উর্ধ্বে।

৪ / জাতির বৃহৎ কিছু সার্থে আল্লামা আহমাদ শফী দা. বা. ও প্রধানমন্ত্রী এক জায়গায় বসার অনেক প্রয়োজন ছিল।
আর প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শরীয়তের বড় একটি মূলনীতি হলো আয যারুরাতু তুবীহুল মাহযুরাত তথা প্রয়োজন সময়ে নিষিদ্ধ কাজেরও অনুমোদন করে। যেমন অনন্য উপায় হয়ে মরা গরুর গোস্ত খাওয়া।

৫ / আল্লামা আহমাদ শফী দা. বা. তো তার দিকে তাকাতে চান নি। বরং তিনি তার সভাবজাত খোদাভীরুতার ভিত্তিতে নিচের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা শেষ করে হজরতকে যখন কদমবুচি করতে যান তখন হজরত বাধা দিলে পরিস্থিতির কারনে রাষ্ট্রীয় সৌজন্যতা রক্ষার্থে তার দিকে তাকিয়ে কথা বলতে বাধ্য হোন। যা ছিল দর্শকদের দৃষ্টিতে বাপ বেটির কথোপকথন।

তাছাড়া দেশ, জাতি ও কওমের বৃহৎ সার্থে আমাদের আশ পাশের রাষ্ট্রগুলোতে সবাই এক সাথে বসার দৃষ্টান্ত রয়েছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে এতটা সমালোচনা হয় না।
এরপরও যদি কেউ সমালোচনা করেন তাহলে বুঝবো মার চেয়ে মাসির দরদ বেশী হওয়ার মত।
আল্লাহ আমাদের সকল কে সঠিক বুঝ দান করুন।

                                                                                                                 3013

                                                            মাও. মাহমুদ হাসান সিরাজী, প্রিন্সিপাল

                                                                   মাদরাসা ওসমান ইবনে আফফান রা.

qaominews.com/কওমীনিউজ/আর

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ