প্রচ্ছদ সাক্ষাৎকার, স্লাইডার

যেভাবে মুসলিম বন্দিদের নির্যাতন করেছে সিআইএ

কওমীনিউজ ডেস্ক | শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 883 বার

যেভাবে মুসলিম বন্দিদের নির্যাতন করেছে সিআইএ

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এইচআরডব্লিউর উপস্থাপিত ‘সিআইএর আটকাদেশ কর্মসূচি’ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির নতুন ধরণের এ নির্যাতনের বিষয়টি ফাঁস হয়

যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার পর সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহে অনেক মুসলমানকে গোপন বন্দিশালায় আটক করে সিআইএ’র নিষ্ঠুর নির্যাতনের ঘটনা এখন আর কারও কাছে অজানা নয়।

সিআইএর হাতে নির্যাতিত এমন দুজন মুসলিম বন্দির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক নতুন গবেষণায়। এতে বন্দিদের উপর সিআইএর নতুন ধরনের নির্যাতন চালানোর ঘটনা জানা গেছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এইচআরডব্লিউর উপস্থাপিত ‘সিআইএর আটকাদেশ কর্মসূচি’ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির নতুন ধরণের এ নির্যাতনের বিষয়টি ফাঁস হয়।

ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিউনিসিয়ার দুই নাগরিক রিদা আল নাজার এবং লুতফি আল ঘেরেসিকে ২০০২ সালে পাকিস্তান থেকে গ্রেফতার করে কোবল্ট নামে আফগানিস্তানে সিআইএর একটি গোপন নির্যাতনকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই দুজনের সঙ্গে তিউনিসিয়ায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন এইচআরডব্লিউর ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক’ আইনজীবী লরা পিটার। নির্যাতিত দুজন সাক্ষাৎকালে তাদের উপর চালানো নির্যাতনের সব কথা লরাকে জানিয়েছেন। পরে লরা তা জানিয়েছেন এইচআরডব্লিউর যুক্তরাজ্য শাখার জনসংযোগ কর্মকর্তা স্টিফেনাই হ্যাংকককে।

নিচে লরার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো—

প্রশ্ন: জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটকে রেখে সিআইএর নির্যাতনের কথা বিশ্ববাসীর কাছে আর অজানা নয়। তারপরেও এ দুজনের কথা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

লরা পিটার: সিআইএর নির্যাতন কর্মসূচির প্রাথমিক শিকার হয়েছিলেন এরা দুজন। এখন পর্যন্ত এ দুজনকে ছাড়া ‘কোবল্টে’ বন্দি আর কারও কাছ থেকে আমরা সরাসরি নির্যাতনের কথা শুনিনি।

আর তাদের কথা থেকে জানা যায়, সিনেট প্রতিবেদনে নির্যাতন পদ্ধতির যে অতি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হয়েছে—বন্দিদের তার চেয়েও অনেক বেশি নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। যা এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ জানে না।

কীভাবে নির্যাতন করা হয়েছে?

সিনেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল নাজারকে টানা দুদিন ২২ ঘণ্টা করে একটি লোহার রডের সঙ্গে শেকলে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, তাকে ঝুলিয়ে রেখে নির্যাতন চলে তিনমাস ধরে। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় মাত্র একবার তাকে ঝুলানো অবস্থা থেকে নিচে নামানো হতো, তাও আবার জিজ্ঞাসবাদ বা অন্য কোনো উপায়ে নির্যাতনের জন্য।

এরপর তাকে আবার ঝুলানো হতো। আর ঝুলিয়ে রাখার পুরো সময়টাতে বন্দিশালাটি থাকতো অন্ধকারাচ্ছন্ন। সেখানে সারাক্ষণ উচ্চস্বরে মিউজিক বাজতো। আর আল নাজারসহ অন্য বন্দিদের ডায়াপার পরিয়ে উলঙ্গ করে রাখা হতো।

আপনি কি নির্যাতনের নতুন আর কোনো ধরনের কথা জানতে পেরেছেন?

হ্যাঁ, দুজনেই (আল নাজার ও আল ঘেরেসি) বলেছেন, তাদেরকে ইলেক্ট্রিক চেয়ারে বসিয়ে নির্যাতনের হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে তাদের কখনোই এতে বসানো হয়নি। আমরা এর আগে কখনোই সিআইএ’র বন্দিশালায় ইলেক্ট্রিক চেয়ার ব্যবহারের কথা শুনিনি।

আল ঘেরেসি জানিয়েছেন, তিনি বন্দিশালায় কফিন দেখেছেন এবং এর ভেতরে তাকে ঢুকানোর কথা বলা হয়েছিল। এদিকে আল নাজার বলেছেন, তাদের মেঝেতে শুইয়ে পানি ঢেলে নির্যাতন এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করা হতো। তরল পদার্থ ভর্তি বড় ড্রামেও ডুবানো হতো।

তিনি আরও বলেছেন, তাকে উপুড় করে একটি কাঠের সঙ্গে বেঁধে বড়সর একটি বালতি দিয়ে বরফ-ঠাণ্ডা পানি ঢালা হতো। তিনি বলেন, আমি এ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে যতক্ষণ পড়ে না যেতাম ততক্ষণ তারা ঠাণ্ডা পানি ঢালতে থাকতো।

এ দুজনকে ডায়াপার পরিয়ে রাখা হতো, যা এক নাগাড়ে চারদিনও পরিবর্তন করা হয়নি। কেন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও তাদের ডায়াপার পরানো হয়েছিল?

এটি ছিল খুবই মানবাধিকার পরিপন্থী একটি কাজ। যা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। সিনেট প্রতিবেদনে সিআইএ দাবি করেছে যে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে পায়খানা-প্রস্রাবের ঝামেলা এড়াতে ডায়াপার পরানো হয়েছিল।

তবে সিআইএর নিজস্ব দলিলপত্রেই এ দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে। সিআইএর কাছে বন্দি অবস্থায় একজন আটক ব্যক্তি নিহত হওয়ার বিষয়ে সংস্থাটি যে তদন্ত করে তার প্রতিবেদনে সরাসরি বলা হয়েছে যে বন্দিদের অপমান করতেই ডায়াপার পরানো হতো।

যুক্তরাষ্ট্র নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনে অনুস্বাক্ষরকারী দেশে, এ কনভেনশন অনুযায়ী বন্দিদের সঙ্গে নিষ্ঠুর এবং অবমাননকার আচরণ করা নিষিদ্ধ।

তাদের কি ঠিকমতো খেতে দিত?

না। তারা দুজন জানিয়েছেন সাধারণত দিনের বেলা তাদের কিছুই খেতে দিত না। আল নাজার আমাকে বলেছেন, কোনো কোনো সময় পুরো সপ্তাহজুড়েই তাকে খাবার দেয়া হয়নি। তারা এও বলেছেন, যা খেতে দেয়া হতো তা পুরোপুরি অখাদ্য ছিল। ওইসব খাবারে পাথর, চুল, ধুলাবালি এমনকি সিগারেটের ফিল্টার থাকতো। আল নাজার বলেন, সিআইএর বন্দিশালায় আটক থাকা অবস্থায় তিনি ৫০ কেজি ওজন হারান।

বন্দিশালায় চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে কিছু বলুন

আল নাজার বলেছেন, তিনি যখন সিআইএর বন্দিশালায় ছিলেন তখন তার কাছে একজন মার্কিন চিকিৎসক আসতেন এবং তাকে পরীক্ষা করতেন।

তিনি জানান, পিটানোর ফলে তার শরীর ফুলে যেত, তা স্বাভাবিক করতে ওই চিকিৎসক তাকে ইঞ্জেকশন দিতেন। কিন্তু যখন ফোলা কমে যেত তখন ওই চিকিৎসক নির্যাতনকারীদের ফের নির্যাতনের ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল দিতেন।

আল ঘেরেসি বলেন, তার উপর নির্যাতন তখনই পুরোপুরি থেমেছিল যখন চিকিৎসক জিজ্ঞাসাবাদকারীদের বলেছিল যে, আমাকে যদি আর এক সপ্তাহ আটক রাখা হয় তাহলে আমি মারা যাব। এরপর তাকে পুরোপুরি দুই মাস সবার থেকে আলাদা করে রাখা হয়।

আফগানিস্তানের কোবাল্টেকে ‘গোপন কারাগার’ বলছেন কেন?

সিনেট প্রতিবেদনে সিআইএ’র যেসব গোপন কারাগারের কথা বলা হয়েছে তার কোনোটিরই প্রকৃত নাম ও অবস্থানের কথা জানানো হয়নি। বরং বিভিন্ন রংয়ের মাধ্যমে এসবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দাফতরিকভাবে এসব গোপন কারাগারের তথ্য গোপন রাখা হলেও এইচআরডব্লিউ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা এসবের নাম ও অবস্থান জানেন। যেমন সিনেট প্রতিবেদনে যে কারাগারটিকে ‘সবুজ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে তার অবস্থান থাইল্যান্ড এবং কোবাল্টের অবস্থান আফগানিস্তানে।

আমরা জানি, আল নাজার কোবাল্টে বন্দি ছিলেন। কারণ সিনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তিনি সেখানকার প্রথম বন্দি ছিলেন। তবে আল নাজার বা আল ঘেরেসির দু’জনের কেউই জানতেন না যে তারা ঠিক কোথায় বন্দি ছিলেন।

আমরা তাদের মতো অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও একই ধরনের বন্দি শিবিরে আটক থাকার কথা বলেছেন। আল ঘেরেসি বলেছেন, বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। তবে তিনি সেখানে অন্যদের চিৎকারের শব্দ শুনেছেন।

‘কোবাল্ট’ বন্দিশালার ভেতরে কী হয়েছে তা সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানলেও, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য সেটির অবস্থান আফগানিস্তানের কোথায় তা আমরা জানতে পারিনি। কয়েকজন বন্দির ধারণা এটি কোনো সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত। আল নাজার আমাকে বলেছেন, তিনি নিশ্চিত যে এটি কাবুলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত। কারণ, একবার তাকে তারা বন্দিশিবির থেকে বাইরে বের করলে এর কাছাকাছি জায়গায় তিনি মার্কিন সামরিক বিমান দেখতে পান।

দুজনের সঙ্গে সাক্ষাৎকাল তাদের দেখে আপনার কী মনে হয়েছিল?

তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে ১৪ বছর আগে। ফলে তাদের শরীরে নির্যাতনের তেমন ছাপ এখন খুঁজে পাবেন না। তবে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে আল নাজারকে খুঁড়িয়ে এবং আল ঘেরেসির দুই হাতের কবজিতে দাগ দেখেছি।

নির্যাতনের কারণে তারা কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। এজন্য তারা বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন এবং তাদের দেখে হতাশ মনে হয়েছিল।

তারা আসলে কিসের জন্য অভিযুক্ত ছিলেন?

আমরা আসলে ঠিক জানি না। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই সরকারিভাবে এ ব্যাপারে কিছুই বলেনি। এ সব নির্যাতিত মানুষ এখন পর্যন্ত কোনও অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হয়নি।

সিনেট প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, সিআইএ আল নাজারকে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের দেহরক্ষী হিসেবে চিহ্নিত করলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা তাকে যে জন্য অভিযুক্ত করেছে তার সবই ছিল মিথ্যা এবং তারা কখনোই কোনও প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। আর এ কারণেই সিআইএ তাকে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান আল নাজার।

আল ঘেরেসি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদকারীরা ক্রমাগত তাকে আল কায়েদার সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত করে তাকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে গেছেন। কিন্তু এটি ছিল সম্পূর্ণ অসত্য।

এ দুজনের দাবির সত্যতার ব্যাপারে কিভাবে নিশ্চিত হলেন?

আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে আমরা আলাদাভাবেই তাদের দুজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। পাকিস্তানে তাদের যুক্তরাষ্ট্র গ্রেফতার করার আগে তারা কেউ কাউকে চিনতেন না।

গ্রেফতারের পর প্রথম ছয়মাস তারা পৃথক ছিলেন। এখনও তাদের মধ্যে কোনও যোগাযোগ নেই। তবে তারা বন্দিশালার একরকম পরিস্থিতি এবং একই ধরনের নির্যাতনের কথা বর্ণনা করেছেন।

তারা যা বলেছেন, তার অনেকটাই সিনেট প্রতিবেদন অনুসমর্থন করে। তবে আমরা ছয় হাজার সাতশ’ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ সিনেটর প্রতিবেদনটি এখনও হাতে পাইনি, এটি এখনও ‘গোপনীয়’ হিসেবে আছে। আমরা ৪৯৯ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন পেয়েছি। যখন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে তখন এ দুজনের ব্যাপারে আরও অনেক বেশি কিছু জানা যাবে।

এ দুজন এখন কীভাবে বেঁচে আছে?

উভয়েই বলেছেন তারা দুরারোগ্য কঠিন ব্যথা নিয়ে বেঁচে আছেন। আল নাজার বলেছেন, সিআইএর নির্যাতনের সময় তার কোমর, পায়ের গোড়ালি এবং পিঠ গুড়ো হয়ে গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেছেন, হার্নিয়া, আলসার, লিভার ফুলে যাওয়া, কিডনি সমস্যা, কানে না শোনার রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি এখন তার বোনের কাছে থাকেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি কোনও কাজ করতে পারেন না।

আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারকালে তিনি সেই পোশাক পরেছিলেন, যা তাকে মুক্তি পাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল। তিনি বলেন, আমার বোনের পাঁচ সন্তান, আর আমি এখন তার ষষ্ঠ সন্তান হয়ে আছি।

আল ঘেরেসি বলেন, তিনি আসলে সর্বস্বান্ত। রাজধানী তিউনিস থেকে তার বাড়ির দূরত্ব পাঁচ ঘণ্টার পথ। তার ঘরের দরজায় কোনও কপাট নেই, এমনকি ঘরটিতে পুরো ছাদও নেই। তিনি তার বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে একটি কক্ষে বিছানা ভাগাভাগি করে থাকেন। তিনি তীব্র ব্যথার কারণে ঘুমাতে পারেন না। তিনি ঝাপসা চোখে খুব একটা দেখতেও পান না। কোনও ডাক্তার দেখানোর ক্ষমতাও নেই তার।

আল নাজার ও আল ঘেরেসি দুজনেই বিবাহিত ছিলেন। কিন্তু তারা যখন যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি শিবিরে আটক তখন দু’জনের স্ত্রীই তাদের ছেড়ে চলে যান। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা তিউনিসিয়ার সরকার এ দুজনকে কোনও চিকিৎসার ব্যবস্থা বা আর্থিক সহযোগিতা করেনি। বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে দু’জন বলছেন, তারা আশাবাদী। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে যে অবিচার করেছে, তার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে হলেও শেষ পর্যন্ত কিছু সাহায্য পাবেন তারা।

এ দুজন কীভাবে বিচার পেতে পারেন?

সিআইএর জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচি চলাকালে এ দুজনসহ অন্যদের সঙ্গে যা ঘটেছে তার ব্যাপার সঠিক পদক্ষেপ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র সরকার। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আল নাজার এবং আল ঘেরেসি প্রতিকার পাওয়ার যোগ্য।

তার মানে দ্রুততম সময়ে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত জীবনকে স্বাভাবিক করতে যা করা প্রয়োজন তার সব কিছুই করতে হবে। তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমা প্রার্থনাও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর কিছুই এখন পর্যন্ত করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারেরও এসব ভুল কাজের তদন্ত করা উচিত। যারা আল নাজার ও আল ঘানেসিকে নির্যাতন করেছিল শুধু তাদেরই নয়, যারা নির্দেশদাতার দায়িত্বে ছিলেন এবং যারা সিআইএর নির্যাতন কর্মসূচির পরিকল্পক ও সমন্বয়ক ছিল তাদেরও বিচার করা দরকার। আর এই দুঃসহ নির্যাতনের চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নথিবদ্ধ করা দরকার।

qaominews.com/কওমীনিউজ/জেআর/এম

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ