প্রচ্ছদ রাজনীতি

আসাম থেকে মুসলমান বিতাড়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা নেজামী

মুর্শিদাবাদ ও করিমগঞ্জ বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার | বৃহস্পতিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 595 বার

মুর্শিদাবাদ ও করিমগঞ্জ বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিতে হবে

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন যে, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম থেকে মুসলমানদেরকে বিতাড়নের জন্যে ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় ও আসাম প্রদেশিক বিজেপি সরকারের পারিকল্পনা মোতাবেক জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের নামে আদম শুমারী থেকে মুলমানদের বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি এই পরিকলপনার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের এই ক্রিয়ার বিরুদ্ধে সমান বিপরীত প্রতিক্রিয়া অনিবার্য হয়ে উঠবে। তাছাড়া খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত বাংলাদেেেশর বিরাট ভূ’খন্ড ভারতকে দিয়ে দেয়ার জন্যে বিজেপি নেতা সুব্রামনিয়ামের দাবি করেন। কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী যখন দিল্লীর আধিপত্য ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির শৃংখলমুক্ত হওয়ার আকাংখায় জেগে উঠেছে, সেই মহুূর্তে বিজেপি সরকারের আসাম থেকে মুসলিম বিতাড়ন এবং সুব্রামনিয়ামের এই ধরনের বক্তব্য কাঁচের ঘরে বাস করে অন্যের দিকে ঢিল ছোড়ার সামিল। বাংগালী মুসলমানদের অনুপ্রবেশের মিথ্যা অজুহাতে আসাম থেকে মুসলিম বিতাড়ন ও বাংলাদেশের ভূ’খন্ড ভারতকে দিয়ে দেয়ার দাবিকে ধৃষ্ঠতামূলক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন যে, বরং ভারত বিভক্তির সময় মুর্শিদাবাদ ও করিমগঞ্জসহ যেসব অঞ্চল তদানিন্তন পাকিস্তান ও আজকের বাংলাদেশের অংশ ছিল, সেসব অঞ্চল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

বুধবার (৩জানুয়ারি-১৮) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী এসব কথা বলেন।

 বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন , চরম হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন এই ধরনের উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনে হিন্দুদের ভোট পাওয়ার কূট কৌশলে প্রবৃত্ত হয়েছেন। তাছাড়া যখনই ভারতে রাজনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করে, তখনই দিল্লীর ব্রাহ্মণ্যবাদী সরকার অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যে ভারতীয় মুসলমানদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে সংকটের বহ্নিশিখা ছাই চাপা দেয়ার অপচেষ্ট চালায়।

বিবৃতিতে বলা হয় যে, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের দেশসমূহ ভৌগলিকভাবে নিকটতম ভারতের সাথে বন্ধুত্ব, মৈত্রী এবং সহযোগিতা সুদৃঢ় ও চিরস্থায়ীকরনের নীতিতে বিশ্বাসী হলেও ভারত আয়তনের বিশালত্ব ও গায়ের জোরে জাতিসংঘ সনদ ও পারস্পরিক সহাবস্থানের নীতি বিসর্জন দিয়ে প্রতিবেশিদের সাথে বৈরী আচরণ অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেশিদের ওপর ভারতের আগ্রাসী থাবা আজ অত্যন্ত প্রকট। প্রতিবেশিদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে পদানত করার লক্ষ্যে  প্রয়াস চালানো হচ্ছে। গত ছয় দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে একটি দিনও সৎপ্রতিবেশিসূলভ সম্পর্ক সৃষ্টির আবহ রচনার সুযোগ দেয়া হয়নি। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশি দেশে ভারতের সন্ত্রাসী তৎপরতা পরিচালানোর কথা সবার জানা। ভারত গোয়েন্দা সংস্থা র-এর মাধ্যমে এসব দেশের অভ্যন্তরে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে অভীন্ন ভারত প্রতিষ্ঠার আবহ তৈরী করে চলেছে।

বিবৃতিতে ভারতের প্রতি একশ্রেণীর লোকদের সেবাদাসত্বের ভূমিকাকে আজকের অক্টোপাসের রাহুগ্রাসের মত বিস্তৃত দিল্লীর আধিপত্যবাদের কঠিন শৃংখলের জন্যে দায়ী করে বলা হয় যে, স্বাধীনতা, স্বাতন্ত্র্য ও আঞ্চলিক অখন্ডতায় বিশ্বাসী বাংলাদেশের জনগণ বিজেপি নেতা প্রবীন তগোরিয়াও সুব্রামনিয়ামদের কোন রকম আধিপত্য, অধীনতা ও বৈষম্যমূলক তথাকথিত প্রস্তাব মেনে নেবেনা।

qaominews.com/কওমীনিউজ/এইচ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ