প্রচ্ছদ সাক্ষাৎকার, স্লাইডার

একান্ত সাক্ষাৎকারে মুফতি ফয়জুল্লাহ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতায় মানবাধিকারের কবর রচিত হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1044 বার

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতায় মানবাধিকারের কবর রচিত হচ্ছে

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেছেন, মিয়ানমারে মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও ধ্বংসলীলা চলছে। রাখাইন মগদস্যু ও সেনাবাহিনীর বর্বরতায় কবর রচিত হচ্ছে মানবাধিকারের। নদীতে, পথে, ঘাটে ঝোপের আড়ালসহ সর্বত্র শুধু মুসলমানের লাশ আর লাশ।  কওমীনিউজকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, মগদস্যু ও সেনাবাহিনীর বর্বরতায় মিয়ানমারে মুসলমান রোহিঙ্গা নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ অসঙ্খ্য বনি আদম প্রাণ হারিয়েছে। রোহিঙ্গা শিশুদের মর্মান্তিক আর্তনাদ, মা-বোনদের আহাজারী,কান্না ও বুকচাপড়ানোর শব্দে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। নিরীহ নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিমদের অসংখ্য ঘরবাড়ি জ্বলছে। সেখানে পুড়ছে মানবতা। জ্বলছে মানুষ। জ্বলছে মুসলিম সভ্যতা-সংস্কৃতি। সু চির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন  দলের নিয়ন্ত্রিত সেনাবাহিনী মুসলিমদের পাখির মতো খুন করছে। পরিকল্পিতভাবে একটি জাতিকে নিধন করার জন্য মিয়ানমারের সামরিকবাহিনী সব অপরাধের চাইতেও বড় অপরাধ করছে। এমন ভয়াবহ বর্বরতা নির্যাতন, নৃশংসতায় নির্বিকার সন্ত্রাসী সু চিকে শান্তিতে দেওয়া নোবেল পুরস্কার ফেরত নিতে হবে। এমন অশান্তির মধ্যেও যে শান্তিতে ঘুমাতে পারে, তার হাতে কিভাবে শান্তি পুরস্কার থাকতে পারে?

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি করতে পারে এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘুর গায়ে আঁচড় লাগলে (যা আমরা সমর্থন করি না) বিশ্ব প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে। কিন্তু মিয়ানমারে দুনিয়া কাঁপানে হামলা হলেও এর বিরুদ্ধে তেমন প্রতিবাদ হচ্ছে না। প্রশ্ন হচ্ছে, আজ কোথায় মানবতা? কোথায় মানবিক বিবেকবোধ? কোথায় মানবাধিকারের ধ্বজাধারী গলাবাজরা? জাতিসংঘ কী করছে? কোথায় ওআইসি? প্রতিটি মানবতাবাদী মানুষ ও রাষ্ট্র, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব, জাতিসংঘ, ওআইসিসহ প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার আহ্বান, রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিন। যাতে মিয়ানমার সরকার গণহত্যার কালো হাত গুটিয়ে নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের শাস্তি দিতে বাধ্য হয়।

মিয়ানমারে মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা আপনাদের ভূমিকা কি ?

মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, অবিলম্বে এই হত্যাযঞ্জ বন্ধ করা না হলে, লাখো কালেমাপড়া এই নিরন্ন, নিঃ¯^ মুসলমানের জন্য, অসংখ্য মুসলিম মা-বোনের জন্য টেকনাফ অভিমুখে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ করতে বাধ্য হবো। একজন মুসলিম মেয়ের আর্তনাদ শুনে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মতো শাসক হিন্দুস্তানে সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন তেমনি ভাবে মুসলমান হিসেবে মুসলমানদের রক্ষার জন্য ইসলামী বিধান অনুযায়ী অনিবার্য হয়ে পড়া জিহাদের ডাক যদি সরকার প্রদান করে তবে সারা বাংলাদেশ জিহাদে অবতীর্ণ হতেও প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতা দেখে এবং মুসলমান হিসাবে আমরা অন্য মুসলমান ভাই বনোদের কঠিন বিপদে নিশ্চুপ থাকতে পারি না। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ওআইসি’র অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের মগদস্যু, সামরিক বাহিনী ও লেডি হিটলার সু চির বিরুদ্ধে মুসলিম গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরো দাবী করে বলেন,

এক. নিকট প্রতিবেশী মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ওআইসি’র দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের মগদস্যু, সামরিক বাহিনী ও লেডি হিটলার সূচি’র বিরুদ্ধে মুসলিম গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার উদ্যোগ নিন।
দুই. রোহিঙ্গাদের মুসলিম হত্যাযজ্ঞ বন্ধে,তাদের জীবন রক্ষার নিশ্চয়তা বিধানকল্পে এবং মিয়ানমারে জাতিসংঘের মাধ্যমে অবিলম্বে শান্তি রক্ষীবাহিনী নিয়োগে জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
তিন. জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারের উপর অবরোধ আরোপ করার জন্য জোরদার, কার্যকর ও শক্তিশালী কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
চার. লেডি হিটলার সুচির নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করুন।
পাঁচ. মিয়ানমার এর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শিথিল করুন।
ছয়. মিয়ানমারের বৈধ নাগরিক রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব বহাল রাখার লক্ষ্যে এবং রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিন।
সাত. রোহিঙ্গাদের জন্য নিজ দেশ মিয়ানমারে স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং যাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করুন।

আট. রোহিঙ্গাদের গণহত্যায় জড়িত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করণে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় বলিষ্ঠ পদ‌ক্ষেপ নিন।

নয়. মানবিক ত্রাণ সহায়তা, স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক, সংবাদকর্মী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গুলোকে সেখানে নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টির জন্য চাপ প্রয়োগ করুন।

qaominews.com/কওমীনিউজ/এইচ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ