প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক, স্লাইডার

ভারতে ‘৩ তালাক বিল’ পাস: কংগ্রেসের সমর্থন, মুসলমানদের বিরোধিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 678 বার

ভারতে ‘৩ তালাক বিল’ পাস: কংগ্রেসের সমর্থন, মুসলমানদের বিরোধিতা

ভারতের লোকসভা

ভারতের কয়েকটি দলের বিরোধিতা এবং মুসলিম নেতাদের তীব্র সমালোচনা উপেক্ষা করে লোকসভায় পাস হয়েছে ‘মুসলিম মহিলা (বৈবাহিক অধিকার সুরক্ষা) বিল। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর-১৭) সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলটি পাস হওয়ায় টুইট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

অধিবেশনের শুরুতে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বিলটি লোকসভায় পেশ করে বলেন, “আজ দেশের জন্য একটা ঐতিহাসিক দিন। নারী শক্তি, নারী সম্মান এবং নারীদের অধিকার রক্ষার্থে এটি এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।”

তিনি আরো বলেন, “একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র এরইমধ্যে তিন তালাক বন্ধ করেছে। ভারতেরও উচিত সেই দিকে পা বাড়ানো।“

তবে এই বিলের বিরোধিতা করে আরজেডি, এআইএমআইএম, বিজু জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ। বিরোধীদের দাবি ছিল, তাৎক্ষণিক তিন তালাককে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছেন। এরপরে এই বিলের কোনো মানে হয় না।

asaduddin

ভারতের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ ও অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (এআইএমআইএম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি।

বিলের তীব্র বিরোধিতা করে অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (এআইএমআইএম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি বলেন, “সংসদে তালাক ইস্যুতে আইন তৈরি করার কোনো অধিকার নেই। কারণ ওই বিলে সংবিধানের মৌলিক অধিকার হরণ হবে। এটা সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।”এসময় তিনি কিছু সংশোধনীও পেশ করেন। কিন্তু ভোটাভুটিতে তা খারিজ হয়ে যায়।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও কিছু সংশোধনের দাবি তোলা হয়। কিন্তু তিন তালাক বিলকে কংগ্রেস সমর্থন করবে বলেও জানিয়ে দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত কণ্ঠ ভোটে বিলটি পাস হওয়ায় এখন থেকে তিন তালাক দিলে ভারতে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এবার এই বিলটি যাবে রাজ্যসভায়। তবে কংগ্রেস যেহেতু আজ বিলটিতে সমর্থন করেছে, ফলে রাজ্যসভায় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও বিলটি পাস হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যসভায় পাস হয়ে যাওয়ার পর বিলটি পাঠানো হবে প্রেসিডেন্টের কাছে। তিনি সই করলেই আইন হবে।

এই বিলে বলা হয়েছে, মৌখিকভাবে, লিখিতভাবে, ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে ‘তালাক’ শব্দটি ব্যবহার করে কেউ যদি স্ত্রীর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চান, তা হলে সে বিচ্ছেদ বৈধ হিসেবে ধরা হবে না এবং এই কাজকে বেআইনি হিসেবে গণ্য করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ধারায় মামলা শুরু করা হবে।

এর আগে এই বিলকে ‘শরীয়া বিরোধী ও ব্যক্তিগত আইনে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ড। এছাড়া, বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন তিন তালাক নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা ও পার্সটুডে

qaominews.com/কওমীনিউজ/এইচ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ