প্রচ্ছদ কলাম, স্লাইডার

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর বিশেষ নিবন্ধ

দেখে এলাম রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির

মোঃ আবদুল লতিফ নেজামী | বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 496 বার

দেখে এলাম রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পি নেজামে ইসলাম পার্টির ত্রাণ বিতরণ

ইসলামের লক্ষই হচ্ছে মানুষের কল্যাণ সাধন। ইসলামে মানবিক মূল্যবোধের স্থান সবার ওপরে। মানবীয় ব্যাপার ইসলামে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানবিক দিক ইসলামের মূখ্য বিষয়। মানবিক মূল্যবোধের ঘাটতির কারণে মৌলিক ইবাদাতসমূহ কোন কাজে আসবেনা। মানবিক ব্যাপার মানে ঈমানের ব্যাপার। মহান আল্লাহ-তায়ালার পছন্দের তালিকায়ও সর্বাগ্রে মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত লোকজন। ইসলামে মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব ও মর্যাদা এতটাই যে, এখানে সকল প্রকার মানবিক আচরণকে ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ইসলাম মানুষের জন্য, মানবতার জন্য এবং মনুষ্যত্বের জন্য। মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত মানুষই মু’মিন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম একটি কারণ এই যে, এটি উদার, সার্বজনীন, বিশ্বজনীন, মানবতাবাদী, মানবিক ও সাম্যভিত্তিক।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ত্রাণ কমিটির সাথে ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির সরেজমিনে পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম সেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংকীর্ণতা, অমুনষিকতা, বর্বরতা, নৃশংসতা ও আঞ্চলিকতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সাথে ত্রাণকর্মীদের মানবিক আচরণের অপরুপ দৃশ্য। সেখানে গড়ে উঠেছে ভ্রাতৃত্বের চেতনা ও ঐক্যবোধ। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের দুঃখ-ক্লেশে ও কল্যাণে নিজেদের সঁপে দিয়েছেন ত্রাণকর্মীরা বিশেষ করে উলামায়ে কেরাম। উলামায়ে কেরামকে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের প্রতি সর্বদা দয়া, সহানুভূতি এবং সম্প্রীতি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে গড়ে উঠেছে ভ্রাতৃত্বের জিম্মাদরিত্বের চেতনা ও ঐক্যবোধ । উলামায়ে কেরাম মানবিক মূল্যবোধে এতটাই উজ্জীবিত যে তাঁরা রোহিঙ্গাদেরকে তাঁদের শরীরের একটি অঙ্গের মতো মনে করছেন। মানবিক বিপর্যয়ের শিকার রোহিঙ্গাদের জন্যে কিছু করতে গিয়ে নিজেরা অশেষ কষ্ট করছেন। উলামায়ে কেরাম রোহিঙ্গাদের সাথে অভাবনীয় ও অচিন্তনীয়ভাবে মিশে গেছেন। প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই এই তত্ত্বের প্রকৃত চিত্র দেখা গেছে সেখানে।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নেজামে ইসলাম পার্টির ত্রাণ বিতরণ

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ত্রাণ কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন পার্টির সহ-সভাপতি অধ্যাপক এহতেশাম সারেয়ার, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা রাশেদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মুফতি আবদুল কাইয়ূম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মমিনুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক পীরজাদা সৈয়দ মোঃ আহসান, কুমিল্লা জেলা সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান বি.কম, কক্সবাজার জেলা সভাপতি হাফেজ সালামতুল্লাহ, সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রহিম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাবের হোসেন, সিলেট বিভাগের প্রতিনিধি মাওলান আসলাম রহমানী ও মাওলানা নাসিরউদ্দিন নিজামপুরী। ইসলামী ছাত্র সমাজের মহাসচিব মোঃ নুরুজ্জামান ও মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।

রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গিয়ে আরো দেখা গেছে, উলামায়ে কেরাম স্বস্তিবোধ করছেন রোহিঙ্গাদের সেবা করতে গিয়ে। রোহিঙ্গাদের সেবা করতে পেরে তাঁরা আনন্দ পাচ্ছেন। উলামায়ে কেরাম রোহিঙ্গাদের ব্যথায় দারুনভাবে ব্যথিত ও কাতর। তাঁরা প্রতিযোগতা করছেন কে কার থেকে বেশি কাজ করতে পারেন। তারা আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে রোহিঙ্গাদের সেবায় নিজেদেরকে উজাড় করে দিয়েছেন। নিজেরা কষ্ট স্বীকার করছেন। তাঁরা রোহিঙ্গাদের ভাই হিসেবে বরণ করে নিয়েছেন। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সেবা করতে গিয়ে তাঁরা অধৈর্য হচ্ছেন না। তাছাড়া দেশের ইমাম-খতীবরাও মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করার জন্য কাজ করছেন। তাঁরা ধৈর্য্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন।

নেজামে ইসলাম পার্র্টি

বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নেজামে ইসলাম পার্টির ত্রাণ বিতরণ

ইসলামের ধারক-বাহক উলামায়ে কেরাম জানেন মানবিক মূল্যবোধ মানে কল্যাণের পথে থাকা, কল্যাণের পথে ডাকা, কল্যাণের পথ দেখানো। উলামায়ে কেরাম জানেন ইসলাম শুধু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা কিংবা অনুশাসনের প্রতি যান্ত্রিক সামঞ্জস্যই নয়, বরং একটি হৃদয়ের ধর্ম, আত্মিক নিশ্চিতের ধর্ম। তাঁরা জানেন মু’মিনের পরিচয় ও বৈশিষ্ঠের মধ্যেই মানবিক মূল্যবোধ লুকিয়ে আছে। একজন মু’মিন ব্যক্তি হলেন মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত একজন মানুষ।

কক্সবাজারের উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসাসমূহ ও অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন ইসলামী দল, সংগঠন ও মাদরাসার ত্রাণ প্রতিনিধিল কক্সবাজার যাচ্ছেন রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্যে। এসব ত্রাণ প্রতিনিধিদলকে নানাভাবে সহায়তা করছেন স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা সমূহ। তাঁরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসা প্রতিনিধিদলের জন্য পথপদর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। যেমন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কক্সবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা ছালামত উল্লাহ, সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রহিম ফারুকী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইয়াছিন হাবিব সর্বক্ষণ আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন। চট্রগ্রাম-কক্সবাজার রোড থেকে টেকনাফ লিংক রোডের আশেপাশে অবস্থিত উখিয়া, টেংখালী, ফালংখালী, হ্নীলা, লেদা মাদরাসা, লেদা, মুহসান ও মধুছড়ার বিভিন্ন শরনার্থী ক্যাম্পে শুষ্ক খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণকালে উপরোক্ত তিন জন আমাদের সাথে থেকে গাইডের ভূমিকা পালন করেছেন। যার ফলে আমাদের পক্ষে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কাজ অনেকটা সহজ হয়েছে। বাইরের লোকজন হয়ত একদিন বা দু’দিন ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে চলে আসছেন কিন্তু তাঁদেরকে প্রতিদিনই কোনো নো কোনো ত্রাণ প্রতিনিদিদলকে সহায়তা করতে হচ্ছে। এতে তাঁরা ও হাঁপিয়ে উঠেছেন।

নেজামে ইসলাম পার্র্টি

হোটেল লবিতে নেজামে ইসলাম পার্র্টর ত্রাণ কমিটি ও কক্সবাজার জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ

নেজামে ইসলাম পার্র্টি

ত্রাণ কার্যক্রম শেষে কক্সবাজার হোটেল নিরিবিলিতে নেজামে ইসলাম পার্টির সংবাদ সম্মেলন

চট্রগ্রাম বিশেষ করে কক্সবাজারের মাদরাসাসমূহকেও অনুরুপ ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রতিনিধিদলকে বিশ্রাম ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাত্রি যাপনেরও সুযোগ করে দিতে হচ্ছে এসব মাদরাসাকে।

প্রথমতঃ উলামায়ে কেরাম ত্রাণ কাজে অবতীর্ণ হলেও এখন অন্যান্যরাও রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্যে ছুটে যাচ্ছেন। দেশি বিদেশি এনজিওরাও ত্রাণ কাজে তৎপর হয়ে উঠছেন। সরকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কাজে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্যে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তবে এতে যেন বেসরকারী ত্রাণ কার্যক্রম নিরুৎসাহিত না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

আরাকান থেকে আগত পিতৃ-মাতৃহীন অনাথ শিশু-কিশোরের সংখ্যা ও কম নয়। তারা যাতে বিদেশি এনজিওর খপ্পরে পড়ে বিধর্মী না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে হবে। তাদের জন্যে শিশু সদন ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করা আশু কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের দ্রুত এগিয়ে আসা উচিৎ।

qaominews.com/কওমীনিউজ/এইচ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ