প্রচ্ছদ অর্থনীতি, স্লাইডার

চার মোবাইল কোম্পানির ৮৮৩ কোটি টাকা কর ফাঁকি

অর্থনৈতিক ডেস্ক | মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 357 বার

চার মোবাইল কোম্পানির ৮৮৩ কোটি টাকা কর ফাঁকি

ভ্যাট ফাঁকির ৮৮৩ কোটি টাকা পরিশোধ করতে চার মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছে গতকাল সোমবার চূড়ান্ত নোটিশ জারি করে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গ্রামীণ ফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেল ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোবাইল ফোন সিম বিক্রিকে (নতুন সংযোগ) সিম পরিবর্তন হিসেবে দেখিয়ে মোট ৮৮৩ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে অভিযোগ এনেছে এনবিআর।

বৃহত্ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-ভ্যাট) সুত্র জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে অথবা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। এর কোনটি না করলে তিন মাস শেষে কোম্পানিগুলোর ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এলটিইউ-ভ্যাট বিভাগ অভিযুক্ত মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও এনেছে। অভিযোগে বলা হয়, সিম পরিবর্তনের যে সব দলিলপত্র দেখানো দরকার, কোম্পানিগুলো তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাই নয়, এনবিআরের এ কার্যক্রমকে বিলম্বিত করার ‘অপচেষ্টার’ অভিযোগও এসেছে গ্রামীণ ফোনের বিরুদ্ধে। এলটিইউ-ভ্যাটের কমিশনার মতিউর রহমান চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেন, অভিযুক্ত চারটি কোম্পানি এনবিআরকে সহযোগিতা না করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। পূর্ণাঙ্গ দলিলপত্র দিয়েও সহযোগিতা করেনি।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতে এ চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানির ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ের তথ্য যাচাই করে এনবিআর। তাতে নতুন করে ৮৮৩ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের নতুন ফাঁকি বেরিয়ে আসে। ফাঁকির অভিযোগের শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণ ফোন। কোম্পানিটি ১ কোটি ৬ লাখ নতুন সিম বিক্রিকে সিম পরিবর্তন হিসেবে দেখিয়ে প্রায় ৩৭৯ কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছে। একইভাবে রবি ৭৫ লাখ ২৫ হাজার সিম বিক্রির মাধ্যমে ২৮৫ কোটি টাকা, বাংলালিংক ৪৫ লাখ ৭৫ হাজার সিম বিক্রির মাধ্যমে ১৬৯ কোটি এবং এয়ারটেল ১৩ লাখ ৬০ হাজার সিম বিক্রিকে পরিবর্তন হিসেবে দেখানোর মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছে।

গ্রামীণ ফোনের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি বিটিআরসি’র (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) সিম পরিবর্তন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। আইন বহির্ভূতভাবে সিম পরিবর্তনের নামে নতুন সিম ইস্যু করেছে। সিম পরিবর্তনের পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রও দাখিল করতে পারেনি। এছাড়া এলটিইউ’র একাধিক শুনানিতেও তাদের প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। প্রায় একই অভিযোগ রয়েছে অন্য তিন মোবাইল ফোন কোম্পানির বিরুদ্ধেও।

জানা গেছে, এ বিষয়ে কোম্পানিগুলোর বক্তব্য হলো, এনবিআর নতুন করে সিম পরিবর্তন ইস্যুতে ফাঁকির অভিযোগ তুলতে পারেনা। কারণ একই ধরণের অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তারা এ ইস্যুতে নতুন করে দাবিনামা জারি না করা কথাও বলেছে। একই সঙ্গে যে প্রক্রিয়ায় সিম পর্যবেক্ষণ করা হয় (দৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা করা) তা সঠিক নয় বলে তাদের দাবি। কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে তাদের এসব বক্তব্য ভ্যাট বিভাগকে জানিয়েছে। তারা বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তিতে সম্প্রতি এনবিআর গঠিত কমিটির মাধ্যমে এ ইস্যুটির সমাধানের দাবি জানিয়েছে। দুই মাস আগে গঠন করা হয় ওই কমিটি। এনবিআর সদস্য ব্যরিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে ওই কমিটিতে মোবাইল ফোন কোম্পানির প্রতিনিধি ছাড়াও বিটিআরসির প্রতিনিধিও রয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের সংগঠনের মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর  বলেন, এটি একটি কল্পিত অভিযোগ। এর আগেও একই অভিযোগ আনা হয়েছিল। বাজার থেকে কিছু মোবাইল সিম কিনে (দৈবচয়ন) তার ভিত্তিতে এত বিশাল টাকা দাবি করা যুক্তিসঙ্গত নয়। যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এ ধরণের দাবি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পৌছায়।  নতুন করে দেশে ফোর-জি’র বিনিয়োগ আসার কথা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে এনবিআরের এ দাবি বিশাল বিনিয়োগকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দেবে।

তবে এলটিইউ-ভ্যাট বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মূলত এটি কোন বিচারাধীন বিষয় নয়। এটি সম্পূর্ণ নতুন দাবি। এছাড়া যে কমিটি করা হয়েছে, ওই কমিটির কার্যপরিধিতে বলা আছে, আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কমিটি কাজ করবে। মূলত সময়ক্ষেপণের অসৎ উদ্দেশ্যে কোম্পানিগুলো এ ধরণের দাবি তুলছে। এ প্রসঙ্গে ২০০৫ সালের এনবিআরের একটি আদেশের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। ওই আদেশে বলা হয়েছে, যে কোন কারণে মোবাইল ফোনের নম্বর অপরিবর্তিত রেখে সিম পরিবর্তন করতে হলে এর তথ্য-প্রমাণাদি প্রতি মাসে এনবিআরকে দিতে হবে। এটি হলো মোবাইল সেবা গ্রহণকারীর সঙ্গে কোম্পানির চুক্তিপত্র বা এসএএফ ও সিম পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য বা এসআরএফ। কিন্তু ফোন কোম্পানিগুলো তা দেয়নি। এ কারণে এনবিআর ওই আদেশের বলে দৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা আইনগতভাবে সিদ্ধ।

এলটিইউ-ভ্যাটের সহকারি কমিশনার বদরুজ্জামান মুন্সি বলেন, এ ইস্যুতে আমাদের গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হচ্ছে, পাঁচ বছর পার হওয়ার পর আইনানুগভাবে ওই অর্থ তাদের কাছে দাবি করা যাবেনা। আদালতেও এটি গ্রহণযোগ্য হবে না।

qaominews.com/কওমীনিউজ/আই/ এইচ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ