প্রচ্ছদ কলাম, স্লাইডার

কওমী মাদরাসা শিক্ষা জ্ঞান-বিজ্ঞানের মশ্বাল জ্বালিয়ে আবারো বিশ্বকে আলোকিত করবে

মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ নেজামী | শনিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৭ | পড়া হয়েছে 692 বার

কওমী মাদরাসা শিক্ষা জ্ঞান-বিজ্ঞানের মশ্বাল জ্বালিয়ে আবারো বিশ্বকে আলোকিত করবে

পাশ্চাত্য দুনিয়া যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অমানিশার কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই মুসলিম মনীষীরাই জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে সমগ্র বিশ্বকে আলোকিত করে তুলেন। যা ছড়িয়ে পড়লো সমগ্র ইউরোপে, সমাদৃত হলো সমগ্র বিশ্বে। মুসলিম দার্শনিকেরাই ইসলামকে দার্শ্নিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার বিশ্লেষণের প্রেরণা পেলো। মুসলিম চিন্তাবিদেরাই প্লেটো অ্যাস্টিটলের দর্শনকে ইউরোপসহ সমগ্র বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আব্বাসীয় এবং উমাইয়া শাসকদের উদার মনোভাব ও অকৃত্রিম পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই বিশ্ববাসী আজ প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের নাম জানতে সক্ষম হয়েছে। মুসলিম খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, আইনবিদসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিবেদিত প্রাণ মুসলিম মনীষী জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্ব্ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব্ উন্নতি সাধনে সক্ষম হয়েছিলেন।

ইউরোপের নবজাগরণ এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি সাধন তাঁদেরই সুচিন্তিত গবেষণা ও দূরদর্শিতার ফল। মহানবি (স.)-এর যুগ থেকেই মুসলমানেরা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অবদান রাখতে শুরু করে উমাইয়া ও আব্বাসীয় আমলে এর পরিপূর্র্ণ্তা লাভ করে। একাদশ শতাব্দিকে বলা হয় মুসলিম সভ্যতা ও কৃষ্টির এক সোনালী যুগ।

যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বর্ত্মান বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি, চিকিৎসা ও সভ্য সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতিতে কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষিত মনীষীরা গুরুত্বপূর্ণ্ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। ফলে ইসলামী দর্শনের পুরনো ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে। তাঁরা আবার বিশ্বকে জাগ্রত ও জীবন্ত করে তুলবত সক্ষম হবেন। নতুন তত্ত্বের আলোকে ভবিষ্যতের জন্যে বিশ্ববাসিকে উপহার দেবেন নতুনত্ব । মুসলিম মনীষীদের চিন্তাধারা আবার বিশ্বের চিন্তাধারায় গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করবে।

উল্লেখ্য উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের অবসানের পর বেনিয়া বৃটিশ শাসনের যাঁতাকলে যখন রাজ্যহারা অধঃপতিত মুসলমান সম্প্রদায় পিষ্ট হচ্ছিল। বিপন্ন হয়ে পড়েছিল নৈতিকভাবে । মুসলিম জনগোষ্ঠী মন-মননে, নীতি-নৈতিকতায় ও চিন্তা-চেতনায় পঙ্গুত্ব বরন করতে বাধ্য হচ্ছিল । তখন ইসলামের শাশ্বত নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের চেতনা সঞ্জীবিত রাখার লক্ষ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে ১৮৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ছিল সময়োপযোগী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। যা কওমী মাদ্রাসা নামে সমধিক পরিচিত। তখন কওমী মাদ্রাসা ছিল আত্মরক্ষামূলক। তদবধি দারুল উলুম দেওবন্দ মুসলিম জাতীয় আদর্শ, ঐতিহ্য রীতি-নীতি. তাহযিব-তমদ্দুন, ইতিহাস ঐতিহ্যের চেতনা নতুন করে সঞ্জীবিত করার কাজে উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে স্বচেস্ট রয়েছে।

বিশ্বের তৌহিদী জনতার মনন আজ যে বিশেষ তাৎপর্য চেতনায় সমৃদ্ধ । নবী প্রেমে উচ্ছলিত আত্ম-প্রত্যয়সিদ্ধ চিত্তে তরঙ্গাভিঘাত ঘটছে এবং সেই সাথে তৌহিদী জনতার চিত্তকে নতুন করে ন্যায়, সত্য ও সততা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করছে, তা কওমী মাদ্রাসার অবদান। কওমী মাদ্রাসা ইসলামের প্রচার ও প্রসারে যেভাবে আন্দোলনকে উপহার দিয়েছে, সে-কথা বিশ্বের মুসলিম জনগণ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। কওমী মাদ্রাসা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক কথায় কওমী মাদ্রাসা ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একটি ইতিহাস, অণুপ্রেরণা এবং ন্যায়, সত্য ও সততা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়।

পরিশেষে বলা যায় যে, কওমী মাদরাসার মনষিীরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণা ও উদ্ভাবনী কৃতিত্ব রাখতে পারবে বলে আশা করা যায়। তারা আবারো জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভিত্তিকে শক্তভাবেই স্থাপন করতে পারবেন যদি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকে। তারা আবারো জ্ঞান-বিজ্ঞানের মশ্বাল জ্বালিয়ে সমগ্র বিশ্বকে আলোকিত করতে সক্ষম হবেন।

                                    প্রখ্যাত ইসলামী রাজনীতিক ব্যাক্তিত্ব, বিশিষ্ট লেখক এবং কলামিস্ট আবদুল লতিফ নেজামী                                                                          চ্যায়ারমেন, ইসলামী ঐক্যজোট বাংলাদেশ

qaominews.com/কওমীনিউজ/আর

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আর্কাইভ